বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট, ২০১২

দেবী ও কবি ২


সাঁই তুমি জ্যোৎস্না বৃষ্টি ভালোবাসো
কি পাও জ্যোৎস্নায়?
নাকি বৃষ্টির আড়ালে লুকাতে যাও গোপন অশ্রু

 
-কি জানি হবে হয়তো

-আমার গোপন নাই কিছুই
আমি অভিনয় জানিনে সাঁই।


-দেবী এমন বলছো কেন?
 

আমি জানি তুমি কি…
আমার আত্মায় কোন মিথ্যার বেসাতী নেই
আমি পাপী না !
 

- আমি জানি !

- সারাক্ষণ কত কতা কই
 

শুনো কিছু ।আমার পৃথিবী
বুকে কান পাতো
 

-আমি ত বুকে শব্দের জন্য কান পাতি না …মুখ রাখি উষ্ণতার খোঁজে ..
কিন্তু সে আমার জন্য নয় !
আমি কেবল স্বপ্ন দেখি
হাহাহা স্বাপ্নিক !


- না গো দেবী
আমার পৃথিবী আজ তোমার লাগিই উষ্ণ
কোথাও শিথিলতা নাই তুমি সর্বত্র


- মরেছ সাঁই .
 

-আনন্দের মরণ! দেখো বুকের অতলে কেমন উল্লাস
 

-দেখলাম…খুব… উষ্ণ
শুধু উষ্ণ ?
আর কিছু পাওনি


-আর কি !
 

-সুরের গন্ধ খুঁজে খুঁজে আমি এগুলাম
সন্ধ্যার কাছে হাত পেতে নিলাম জীবনের শক্তি


-কিন্তু অনাবাদী জমিতে কিসের আবাদ !!
-এইতো কৃষকের দাবী
আমায় এক টুকরো জমি দাও
এঁটেল
বেলে
পলি
খুঁটে খুঁটে চাষ করি শাণিত লাঙ্গলে
অতল ফলায় ছিঁড়ে দিই আগাছা ঢাকা মাটি


- কিন্তু কিছু মরা হার গোড় ছাড়া আর কি উঠে আসবে ওতে বল !

-হোক মরা হাড়
জন্ম জন্মান্তরের চেনা গন্ধ টুকু মরে কি


- জানি না !
- সব বোধ মরে গেছে
 

-অন্ধকার ছিঁড়ে এবার উদয় হোক রণ প্রভা
আমি তোমার জাগাবো দেবী
 

-মরে যেতে চাও সাঁই
না ,কেবল জাগাবো সকল সত্ত্বা
 

-হে দেবী
ফিরাইও না
আমি বাঁচতে চাই
মরে বাঁচতে চাই
তোমার বুকের গলিত সুরায় মেটাতে চাই
আজন্ম তৃষ্ণা!!


-অসুখের তৃষ্ণা হচ্ছে সুখ

- দেবেনা?
না করোনা দেবী
কি যে বল সাঁই!
 

- কই তুমি ! আর কই আমি!!

-তোমার একটুকুন হাঁ আমার সহস্র স্পন্দন

-বৈষম্য খুঁজোনা দেবী
আমি তোমার পূজারী
আমার হৃদয়ে যে স্রোত বাসি হয়ে গেছে …যে দাবী …তোমার কাছে …


-জানো কি,কোথায় এর সমাপ্তি?
 

-সমাপ্তি চাও কেন?
পথই পথ দেখায় জানোনা?


- ফের স্বপ্ন !
যাকে সবচেয়ে ভয় না প্রত্যয়
 

-প্রত্যয়ে ভয় নাই দেবী
 

-ভয় প্রেমে !
 

-চোখ বুঁজে রাখো হাত বুকের মাঝে

– তোমাকে পাই কিন্তু এত স্রোত
এতো উন্মত্ততা!


-ও টুকু জয়ের সাধ্য করে নেবো
স্রোতের মাঝে হারাবো ক্ষতি কি?
 

-তবুত থাকবো নদীর বুকে
অতলে তলাবো
অনলে জ্বলবো, এইতো সুখ!!
যা তোমার সুখ
তা কি আমার সইবে?


-তোমাকেই করবো সুখের রানী
মিথ্যের বেড়াজাল পুড়িয়ে
সত্যের হাসি কান্নায় ভেজাবো বুক
আমি তোমার চৌচির জমি বইয়ে দেব
করতলে নাও আগলে


- শুধুই শূন্যতা ! দেখনি তুমি
-আগলে নাও প্রেমের সমস্ত শূন্যতায় 
শুন্যতা থাকবে না
আমি থাকতে দেবোনা দেবী…


- বেচে থাকবার …… মোহ অ মমতার
- এইযে শৃঙ্খল


-মোহ কেন বলছো?
 

-আমাদের প্রাপ্তি টা কই বলতে পার
 

-অধিকার
এইযে সম্মান
শ্রদ্ধা
ভালোবাসা
একদিন আসবে সমষ্টিগত জয়


-প্রদীপ জেলে রাখছ তবু
 

-এটাইতো বেচে থাকা দেবী
 

-কি জানি !
 

-লুকাও কেন?
 

– আমি ত ভুলেই গেছি বেচে থাকবার সংজ্ঞা

- আমি তোমায় সব ফিরিয়ে দেব
তুমি ফের জাগবে! ফাল্গুন


- অস্তিত্ব হীনে কি দেবে … কি বা ফেরাবে
হাহাহা হাসালে


-অস্তিত্বে তাকাইনি দেবী আত্মাই যথেষ্ট

-আমি জন্মান্তরের ঘোর বর্ষা বুকে নিয়ে আছি
 

-তবেতো তুমি অপার
-তোমার চখে…


-এতে কি তুমি তৃপ্ত হবেনা ভাবছো?
আমার চোখ কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়?

আমি তোমার দমের উদ্দাম হতে নই
দমের প্রশান্তি হতে চাই কারণ একটুকুন প্রশান্তি
তোমাকে আমার ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেবে।
আমাকে কাঁদাতে পারো , কিন্তু কাঁদানোর জন্য নিজে কাঁদিওনা
আমার একটা দাবী মানবা দেবী..


- বলো
 

- আগামী পূর্ণিমায় এক বার সেজো
- হাহাহা
- হাসছ যে
- সাঁই তুমি পাগল
- জানি
 

- তুমিই সাজিয়ে দিও , নিজের মত সাজিয়ে নিও

- তোমায় ছুঁতে গেলেই কামিনী ফুলের পাপড়ি ঝরে
বাগানের বুক সয়লাব হয় থোকা থোকা নিষ্পাপ ভুলে

-ভুল?
হ্যাঁ দেবী, ভুল!
জানোনা রোজ রাতে তোমাকে সাজাতে আয়োজন করি পূজার
রোজ রাতেই লণ্ডভণ্ড হই সজারু কাঁটার আঘাতে


- সে কী?
 

- হ্যাঁ দেবী, তোমায় জাগাবার জন্য, স্পন্দিত ধ্বনির জন্য
আমি সে অর্চনায় নিমগ্ন হই
হৃদয়ের প্রমত্ত জোয়ারে ভাসিয়ে দিই সমস্ত শঙ্কা!!

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১২

দেবী ও কবি (১)

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১২

জলের উপর পড়েছে তোমার ছায়া

 
জলের উপর পড়েছে তোমার ছায়া
******************
গোপনে একান্ত সঙ্গোপনে বেড়ে চল্লো বুকের স্পন্দন
জলের উপর পড়েছে তোমার ছায়া তরঙ্গে প্রমত্ত অনুরণন
সোনা রোদ্দুর যৌবনের ভেসে যাওয়া উন্মত্ত চিত্ত
... বালির সৈকতে আছড়ে পড়ে ঢেউর মকুট অনন্ত অবিরত…

বুকের পাশে রেখেছো আমার মুখ, নিজের সমস্ত সুখ
হাসতে হাসতে উজাড় করেছো জীবনের এক একটি বসন্ত
অথচ; আমি তোমারই ছিলাম
তোমারই ছিলাম দুঃখের নিকষ অমানিশার চেরাগ হয়ে
হৃদয়ের বিবাগী খর স্রোত নদীর কূল বেয়ে উঠে আসা আশা নিয়ে
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘূর্ণিঝড়ের মত তুমিই ফিরিয়ে নিলে মুখ
বুকের পাশে রেখেও রাখলেনা বুকের মাঝে
যেখানে অংকিত আমার আজন্ম জীবনের সুখ।

অপেক্ষার কথা বলছো?
জানি, কেঁদেছও অপেক্ষাতে মরতে মরতে
শুধু ফিরে দেখলেনা
অনন্ত পথের দুর্গম বাঁক ভাংতে ভাংতে এই পথিকের দুর্লঙ্ঘ্য দুর্ভোগ

উৎসর্গঃ দূর বাসী থেকে যে আমার কানে কানে বাজায় কবিতার ফিসফিস

সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১২

খুঁজি নিষ্কৃতির আলিঙ্গন



অতি চেনা এই সুর এই সঙ্গীত
নিভৃত তৃষ্ণায় বেদনা বিদূর আবহ কণ্ঠ
দারুণ অভিমানে ঝরে পড়ে মন্ত্র-মধুর অতীত
ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে মূর্ছনা দূর সমদূর
বুকের ইথারে জারি হয় নতুন অর্চনা নতুন ছন্দ।

বিভৎস কালিমা রেখায় ছুঁয়ে যায় অশ্রুর শুভ্রতা
কতকালের চেনা সেই নদী আর স্রোতের উন্মত্ততা
গলাগলি করে স্লানরত গাংচিলের পবিত্র সত্ত্বা
দুজনেই মুগ্ধ হতাম সেই সব সাদৃশ্য আয়োজনে-
হাতের কর গুনে গুনে বুনা হতো স্বপ্নের বারতা।

তীব্র আকাঙ্ক্ষায় বিচলিত হৃদয় খোঁজে নির্বাণ পথ
জ্যোৎস্না ভোগের নিভৃত তৃষ্ণায় নাক মুখ গুঁজে দেয় উদ্দাম নদীর বুকে
প্রাণপণে খোঁজে নিষ্কৃতির উষ্ণ আলিঙ্গন, নিঃসীম নিশ্চয়তা
যেই তীব্রতায় ফুটেছিলো পিঞ্জরের সৃজন সজীবতা
ফিরে আর আসেনি সেই কুজন লিখা হয়নি কাঙ্ক্ষিত কবিতা।

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

জমে যাচ্ছি পাথরের মত



জমে যাচ্ছি পাথরের মত
জমে যাচ্ছে সুখ,দুঃখ, দীর্ঘশ্বাস ব্যতীত আরো ক্ষত সমস্ত
নরম কোমল হৃদয় হতে ক্ষয়িত রক্ত
লাল মেঘের মত পরতে পরতে ঠাঁই নিচ্ছে অনন্ত বুকে
জমে যাচ্ছে বরফ স্বচ্ছ এক একটি শোকার্ত অশ্রু;
স্মৃতির মলাটে জমে আছে যাপিত জীবন
রঙ বেরঙের বিচ্ছিন্ন স্বপন।
প্রেমময় সুখ চিহ্ন, চুম্বনের বিবর্ণ দাগ, কান্নার রেখা
জমে জমে ক্রমেই হচ্ছে পাথর নির্লিপ্ত
দেখার কিছুই নাই
বারে বারে ফিরে চায় তবু বরফ গলা পথের শাখায়
এবার একটু শীতলতা চাই, একটু প্রশান্তি চাই।
বরফের ধর্ম কি- জমে যাওয়া না গলা
এক টুকরো বরফ হতে চেয়ে আমি আজ বড্ড দোদুল্যমান…

জমে যাচ্ছি পাথরের মত



জমে যাচ্ছি পাথরের মত
জমে যাচ্ছে সুখ,দুঃখ, দীর্ঘশ্বাস ব্যতীত আরো ক্ষত সমস্ত
নরম কোমল হৃদয় হতে ক্ষয়িত রক্ত
লাল মেঘের মত পরতে পরতে ঠাঁই নিচ্ছে অনন্ত বুকে
জমে যাচ্ছে বরফ স্বচ্ছ এক একটি শোকার্ত অশ্রু;
স্মৃতির মলাটে জমে আছে যাপিত জীবন
রঙ বেরঙের বিচ্ছিন্ন স্বপন।
প্রেমময় সুখ চিহ্ন, চুম্বনের বিবর্ণ দাগ, কান্নার রেখা
জমে জমে ক্রমেই হচ্ছে পাথর নির্লিপ্ত
দেখার কিছুই নাই
বারে বারে ফিরে চায় তবু বরফ গলা পথের শাখায়
এবার একটু শীতলতা চাই, একটু প্রশান্তি চাই।
বরফের ধর্ম কি- জমে যাওয়া না গলা
এক টুকরো বরফ হতে চেয়ে আমি আজ বড্ড দোদুল্যমান…

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১২

তবুও যাবো জ্যোৎস্নায়



তবুও যাবো জ্যোৎস্নায়
***********
জ্যোৎস্না আমাকে উন্মুক্ত করে দিতে চায়
বিহঙ্গীর মতো উড়িয়ে নিতে চায়
 আমার ভেতর আমাকে তলিয়ে দিতে চায়
উদ্ভ্রান্ত যৌবনের সরীসৃপের তাড়ায় আমাকে তাড়িয়ে নেয়
বন বাদড়ের ভেতর দিয়ে
উত্তপ্ত মরুর উপর দিয়ে
অক্ষান্ত সমুদ্রের বুক চিরে
অজানা অচেনা এক নীল সীমান্তে
আমি উচ্ছল চিত্তে অবিরল চঞ্চলতায়, বেমালুম মুগ্ধতায়
ছুটে চলি প্রলুব্ধ পথে...

গুপ্ত ভীষণ গুপ্ত কিছু মোহে
জ্যোৎস্নার জ্বল জ্যান্ত চাকচিক্যের প্রভায়
উগ্রে দিই দ্বিধাহীন ভালোবাসার সমস্ত আরাধনা
রাতের মিহি হাওয়া বিরহী কান্তে কানে কানে এসে বলে যায়
জ্যোৎস্নার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অমানিশার ছলনা
ততক্ষণে আমি লণ্ডভণ্ড
লুণ্ঠিত আমার সঞ্চিত স্বপ্নের পবিত্র হৃদয় ভূখণ্ড
নিঃশেষ প্রায় আশা নিয়ে প্রাণ-প্রদীপ নিভু নিভু
চৈতন্যের হৃত আলোয় বেচে থাকে যেটুকু সঙ্কল্প
নিবিড় মমতায় কবিতার হাত ধরে ফের উঠে দাড়াই।

জানি জ্যোৎস্না আসবে ফের
আমিও ফের হবো বিগলিত। চকিত চঞ্চল উচ্ছলতায়
জানি ফের লুণ্ঠন হবে আমার হৃদয় বাগিচা
তবুও যাবো জ্যোৎস্নায়
তবুও খুঁজবো অজানা সেই সুরা,
যার তৃষ্ণায় মাতাল আমি বার বার।