দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস
ডাঃ দাউদুল ইসলাম। ছোট বেলা হতে প্রেমে পড়ি কবিতার, কবিতা পড়ি- যেখানে পাই যা পাই প্রিয় কবিদের লিখা কাব্য যত্ননিয়ে পড়ি সংরক্ষন করি। লিখি যখন যা পারি কখনো হয় কখনো হয়না তবু মনের ইথারে একটি কথা বারবার উঁকি দেয় যে এক দিন আমার ভুবন জুড়ে হবে কাব্যময় উচ্ছ্বাস।
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক
শুক্রবার, ২৬ মে, ২০২৩
গরিমা
তিমিরাবৃত্ত আত্মা
কুয়াশা ভেজা লজ্জাবতী ফুল, সিক্ত লতা
ছুয়ে দিলে
চুকে যায় গরিমা, আরক্ত ঠোঁটে ঝেকে বসে
রুক্ষ দিনের রূঢ়তা!..
ফিরি
হারনো দিনের গানে
অশ্রুত মনে নেমে আসে অলকানন্দা..
৪/৫/২৩
রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
সজাগ কষ্ট
কষ্ট নিজে জেগে থাকে, আর
জাগিয়ে রাখে আমার চারদিকের জগত
অদৃষ্ট
বীভৎস শীৎকার।
জাগিয়ে রাখে অবলুপ্ত আবেগ
আদি রাগ
বিষণ্ণ মেঘের পিষ্টে সুপ্ত বহ্নিহার!...
জেগে থাকে একটি সুষম প্রভাতের অপেক্ষা...,
জাগিয়ে রাখে আতপ্ত চাঁদ,
সোনালি আভার বুকে সূক্ষ্ণা উষ্ণতা, দূর্বার আঘাত।
যেই ব্যথার তীব্রতা ছুঁইয়ে গেছে খরস্রোতা নদীর বাঁক,
বিভূঁইয়ে স্বপ্নের মত শুনিয়ে গেছে অলীক কবিতা...
কষ্টরা গেঁথে আছে সেই স্মৃতি জাগানিয়া স্বরে
জেগে আছে নিশুতি রাত মদিরা অভিসারে।
সেই কবেকার জোয়ারে ভেঙ্গে গেছে বাঁধ,...
ভেসে গেছে রুধির উদ্যান
সবুজ মাঠ
হাসনাহেনার ঘ্রাণ
আর
আমার বুকে রেখে গেছে দহন লীলা
চোখে কৃষ্ণসার শিলা পাথর
আড়ষ্ট শিল্পের নির্বাক মৌনতা!...
সেই থেকে জেগে আছে কষ্ট!
মৃত্যুর সংকল্প
ভয়াবহ নৃশংসতা!...
শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১
খামখেয়ালীর মনে
ব্যঞ্জনা দিতে এসে ছিলে
দিয়েছ,
তারপর চলে গেলে।
তিন কূলে কেউই রইলনা আর
লাঞ্ছিত হাতে আঁকড়ে রলাম নীলবিষ আর
নির্বাণ অঙ্গার।
এখন তুমি ভালো আছো আগের চেয়ে বেশ;
মধ্যখানে
আমার সাথে খেলে গেলে খামখেয়ালির লেশ!
আধুলির দামে কিনতে পাওয়া জুয়ার ঘরের দাস
এর বেশী আমায় ভবতে পারো নি!
কথিত সুশীল সমাজ
আর লালিত কুকুরের গলা বাজি
ঘিরে থাকা আহ্লাদ;
আমাকে হাতে কলমে দেখিয়ে দিলো-
প্রেম বলে কিছুই নেই!....
আছে কেবল ভোগ বিলাস।
বলতে পারো?
কতটা খামখেয়ালী মনে জাগলে
হাসতে হাসতে জীবন করতে পারে জীবনের সর্বনাশ!!
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১
ছায়ার তলে ছায়া মানব
ছায়ার তলে ছায়া মানব // দা উ দু ল ই স লা ম
নিকষ কালো রাত।
মস্তিষ্কের অন্দর মহলে নৈশব্দের নিস্তব্ধতা
স্মৃতিরা ভিড় জমিয়েছে
হত আতংকিত ডেনড্রাইড গুলো নির্বাক,
অধীর..
শির বেয়ে নেমে আসছে
হিমেল
রক্তের মিছিল;
দূর কোথাও কাঁদছে
বৃষ্টি ভেজা ডাহুকের মন..
হৃদয়ের হননে
গুনছি
আপন প্রাণের স্পন্দন।
নির্ঘুম
চোখ ভেজা স্যাঁতস্যতে...
না-
এখন কোন প্রকার চটপট নাই
উত্তেজনা নাই
অপেক্ষা নাই
আশা প্রত্যাশা নাই...
এ এক নিস্পন্দ ছায়া
আর
আমি ছায়া মানব!
ছায়ার তলে ছায়া মানব;
খুঁজি না আর
কোনটি অভিনয় - কোনটি বাস্তব!!
বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২০
অধরা তাপসী // দা উ দু ল ই স লা ম
অধরা তাপসী, হে প্রিয়তমা আমার
দেখো ঐ অকূল প্রান্তর থেকে, ছুটে আসছে দুর্মার অন্ধকার; দেখো ঐ হিজলের বুকে বিঁধে আছে অপয়া বিষাদাগার, তপ্ত বিলাসী প্রজাপতির ডানা জোড়ার বর্ণাঢ্য কারুকাজে জমেছে ধুলোর আস্তরণ, বিস্মৃতির বিরহী সুর বাজে। অলীক অহংকারে দূর আকাশে মেঘের বনে ঠুমরীর গর্জন বজ্র হুংকারে শুনো আমার আর্ত চিৎকার! যে আকুতি ঘিরে কেঁদেছি বার বার, দেখো সেই ঘোরে ডুবে আছে সহস্র স্বপন তোমার -আমার। ক্রুদ্ধ স্মরে যে কথা বলে যাই, দুঃস্বপ্নের গহ্বরে তার প্রতিধ্বনি শুনতে পাই; এই সেই মিনতি বিগলিত অলকানন্দা হয়ে তোমার চরণে দিয়েছে আরতি; বৃন্তচ্যুতে যেই উত্তাপ তোমাকে বিস্ফোরণ করেছে টগবগে লাভার মতন, এই সেই শীতল দৃষ্টি; যেই চোখে পেতে পারো এক পশলা জীবন।
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯
প্রসঙ্গ - আমিন , ভুল জায়গায় ভুল বাক্য ব্যবহার করে যেভাবে নিজেদের বিপদ বাড়াচ্ছি-
-------------------------------------------------------- দাউদুল ইসলাম।
আমরা প্রতিদিনই শব্দ টি উচ্চারণ করছি, বলছি বা লিখছি। তবু আজ ‘আমিন’ প্রসঙ্গে লিখতে হচ্ছে কারণ বেশ কিছু দিন থেকে প্রসঙ্গটা আমাকে ভাবাচ্ছে।
কারণ বর্তমান ভার্চুয়াল সময়ে আমরা কম বেশী প্রায় সবাই ইন্টারনেট/ ফেসবুক ব্যবহার করেন।আর এসব মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তের খবরা খবর পাই, খবর পড়ে বা যে কোন ঘটনা
পড়ে মন্তব্য করছি- এই যে মন্তব্য করছি, একটা কথা লিখছি বা একটা শব্দ ব্যবহার করছি
এর গুরুত্ব কিন্তু অনেক। মন্তব্য বা বাক্য এমনিতে বিষয়ের উপর প্রভাব ফেলে, কারণ শব্দের একটি শক্তি আছে- যাই হোক মূল প্রসঙ্গে আসি-
কথা বলছি ‘ আমিন’ বলা নিয়ে। কেন আমরা আমিন বলবো, কখন বলবো?
আমিন শব্দ টির এসেছে ‘আমেন’ থেকে আমেন (Ameen) একটি হিব্রু শব্দ। এর অর্থ – 'so be it' অর্থাৎ 'এমনটাই হোক'
ইহুদী ও খৃস্টানরা একে প্রার্থনা বা প্রভুর গুণগানের পরেই বলে থাকে। মুসলিম সাম্রাজ্যের বিস্তারের সাথে সাথে বিজিত রাষ্ট্রগুলোর ইহুদী ও খৃষ্টানরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে, সেই সাথে তাদের অনেক রীতি নীতি ইসলামে প্রবেশ করে।
ফলে মুসলমানেরাও যখন আল্লাহর নিকট কোন প্রার্থনা করে, মঙ্গল কামনা করে বা দোয়া করে তখন যিনি মোনাজাত করছেন তার সাথে সাথে অন্যরাও আমিন বলে সম্মতি জানান।
তার মানে আমিন অর্থ হচ্ছে – সম্মতি দেয়া, একমত হওয়া বা কবুল করা।
হ্যাঁ এর নির্দেশনা এসেছে হাদিস থেকে।
আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন যে রাসুল (সা) ইরশাদ করেন যে,- ইমাম যখন আমীন বলবে তোমরাও তখন আমীন বলবে। কারণ ফেরেশতাগণের আমীন বলার সাথে যার আমীন বলা হবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।
ইমাম তিরমিযী (রহ) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
দুর্ঘটনা টি বা দুঃসংবাদ টি কে আপনি সমর্থন করছেন, এবং আরো হবার জন্য দোয়া করছেন।
আমরা আমাদের প্রতি ওয়াক্ত নামাজে ইমাম সাহেব যখন সুরা ফাতেহা পাঠ করেন তখন আমরা মনে মনে বা শব্দ করে আমিন বলি। কারণ সুরা ফাতেহা একটি সম্পূর্ণ দোয়া যার পরে আমরা আমিন বলে তা কবুল হোক বলে সম্মতি বা আবেদন জানাই।
এক কথায় আমিন মানে '(আল্লাহ) আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন '
যেমন রাসুল সা: কে বলা হতো আল-আমিন তথা একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি!
আশা করি বিষয় টি সবার বোধগম্য হবে।
