আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক!...
যে মানুষ গুলো আপনাকে সামনে সালাম দিচ্ছে সেই একিই মানুষগুলোই পাশকাটিয়ে যেতে না যেতেই আপনার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করা অভিশাপ আর গালিগালাজ করছে!..
কি করবেন এমন সম্মান দিয়ে? কি হবে এই ভীতির সালামে?
জীবন তো একটাই
এতো ধন এতো সম্পদ এতো টাকা কি করবেন যদি না মানুষের মনে নিজের জায়গা অর্জন করতে না পারেন!..
আমাদের উচিত এমন জীবনের যে -
মানুষ যখনি দোয়ার জন্য হাত তুলবে তখনি আমার নাম অথবা আমার চেহারা তার মনের চোখে ভেসে উঠবে। শুভকামনায় পরম প্রভুর নিকট বিগলিত হবে।
জানেন
বিনয়ী মানুষ আর অবিনয়ী মানুষের মধ্যে পার্থক্য কি?
একজন বিনয়ী মানুষ তাকালেই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়, আর একজন অবিনয়ী মনুষ সারাক্ষণ সমস্যার মধ্যে উত্তাপ ছড়ায়। সে নিজে যতটা উত্তপ্ত তার পৃথিবী ততটা দোজখময়!.. ফলে
সে সারাক্ষণ নিজের চাকচিক্যকে ভীতিকর করে রাখে যাতে মানুষ তাকে ভয় পায় ; অথচ
সত্য হচ্ছে সে-ই তার চারপাশের দুনিয়া কে ভয় পাচ্ছে! কারন সে বুঝতে পারে তার চারপাশের মানুষগুলো কেউই তার আপন নয় কেউই তার শুভাকাঙ্ক্ষী নয়!..
এবংকি যারা তার সার্বক্ষণিক সহচর তাদেরকেও সে বিশ্বাস করতে পারে না। আদতেই
সার্বক্ষণিক ঘিরে রাখা লোকগুলোও মন থেকে তাকে ভালোবাসেনা।
ফেরাউন কে যেমন তার স্ত্রী ভয় পেতো ভালোবাতো না কিন্তু সবসময় ভাব দেখাতো স্বামীকে সে অনেক ভালবাসে, তেমন!..
মানুষের যদি এমন সুযোগ থাকতো যে একবার মৃত্যুর পর আবার কিছুদিনের জন্য জীবিত হয়ে ফিরতে পারবে
তাহলে সে এটাও দেখার সুযোগ পেতো যে- মৃত্যুর পর তাকে ক'জন মানুষ ভালোবসে বা মিস করে।
তবে মৃত্যুর পর ফিরে না এলেও মৃত্যুর পর মৃতরা জীবিতদের সবার মনের ভাব দেখতে পারে।কিন্তু তখন তো আর কিছুই করার থাকে না।
অবশ্য সৃষ্টিকর্তা আমাদের শিক্ষা দেয়ায় জন্য আমাদের জীবদ্দশায় নানান ভাবে শিক্ষাদেন সুযোগ দেন । যেমন-
আমরা ইতিমধ্যে এমন রোগ বা সমস্যা থেকে উদ্ধার পেয়েছি যে- সেই একিই রোগ বা সমস্যায় পড়ে অনেকেই মৃত্যু বরণ করেছে না সেই একিই সমস্যায় পড়ে অনেকেই পথের ভিখারি কিংবা উন্মাদ হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের আল্লাহ বারবার সুযোগ দেয়ার কারণে আমরা এখনো পৃথিবীর জিবন ভোগ করতে পারছি।
দেখুন
স্রষ্টা সভার জন্য সমান।
রাজা বাদশা প্রজা ফকির
নেতা কর্মী, মুসলিম অমুসলিম সাদা কালো জাত বিজাত সবাইকে তিনি ক্ষমার সুযোগ দেন, পরিবর্তনের সুযোগ দেন।।
কিন্তু আমরা ভোগ্যদাসত্বে এতোটাই মশগুল যে
স্রষ্টার সে সব লীলাখেলা আমরা টেরই পাইনা।
আমাদের উচিত
নিজেকে উপলব্ধি করা।
মনকে নিয়ন্ত্রণে আনা আবেগ ক্ষোভ লোভ লালসা মোহ হিংসা এসব কিছুকে নিয়ন্ত্রণে আনার টেকনিক অনুসরণ করা।
পবিত্র কোরান তো বটেই
পৃথিবীর সকল ধর্ম গ্রন্থ গুলোতেই এই বিষয় গুলো নিয়ে বিশদভাবে নির্দেশনা রয়েছে।
কিন্তু আমরা অধম
নাফরমান
শয়তানকে অনুসরণ করতে করতে আমরা একসময় ভুলেই যাই যে-.একদিন তাহার (আল্লাহর) কাছেই ফিরে যেতে হবে, তাহার প্রশ্নের জবাব দিতে হবে, জীবনের হিসাব দিতে হবে।
দুনিয়ার বড় বড় ওয়াস্তা দানকারী নেতারা, ধনকুবেররা কেউই এই প্রক্রিয়ার উর্ধ্বে নয়।আর সে দিন আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন ( আমরা বিশ্বাস করি মহানবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাঃ সেই অনুমুতি পাবেন) তিনি ছাড়া আর কেউই আল্লাহর কাছে উকলাতি বা সুপারিশ করার চান্স পাবেনা।
সুতরাং
রাখেন আপনার নেতাগিরি
আপনার টেকার গরম, সম্পত্তির অহংকার, রুপের দেমাগ, শক্তির বাহাদুরি!..
ফালাই রাখেন আপনার গাড়ি বাড়ি আর সোনাদানা হীরা মুক্তার ঝংকার!..
আগে একা হউন
মৌণ পাহাড়ের মত একা!..
নিশি জাগানিয়া পেচাটির মতো
একদম একা!..
চোখ বন্ধ করেন
নীরবে দম নিন
ধীরে ধীরে ডুব দেন নিজের ভেতর...
প্রশ্ন তুলুন
কে আমি?
কি আমি?
কোথায় আমি?
কোত্থেকে আমি?
একদিন
দুদিন
প্রতিদিন.... করে যান
তারপর অনুভব করবেন
গড্ডালিকাপ্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয়া আপনি অমূল্য মকুট নিয়েই দুনিয়ায় এসেছেন
দেখবেন
নর্দমার কীট গুলোর সাথে ভেসে গিয়ে আস্তাবলের রাজা না হয়ে
ধূ ধূ মরুর তৃষ্ণার্তের জীবন আর দুর্গম কষ্টে অর্জিত মোটা ভাত মোটা কাপড় অনেক সম্মানের!
আপনি শোকর গুজার হবেন
নিজের অজান্তেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধারন করবেন
চারপাশের আগুনের লেলিহান দাবানলের মাঝে থেকেও হযরত ইব্রাহিম আঃ এর মতো নির্ভীক
প্রশান্ত চিত্ত নিয়ে বলে উঠবেন -
শোকর আলহামদুলিল্লাহ
শোকর আলহামদুলিল্লাহ!..
সুবহানাল্লাহ!....
দাউদুল ইসলাম