দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬

অবিশ্রান্তির সন্ধানে


অবিশ্রান্তির সন্ধানে


 তোমাকেই ভালবেসেছিলাম  অবিরাম - বিগত বসন্তে
তোমাকেই আঁকড়ে রেখেছিলাম অবিরাম-  অনন্ত শীতে।

অবিরাম নাম ধরে ডেকেছিলাম - কোকিলের কণ্ঠে
উদাম গ্রীষ্মে ভরে খুঁজেছিলাম রুধীরাক্ষের মদিরা স্রোতে।

সূর্য প্রণাম থেকে সন্ধ্যাবাতি, অবিরাম ধ্যানে ছিলাম অশ্রুমতি
তোমার সন্ধানে ডুবেছি অবিরাম- হৃদয়ের গহীনে অজস্র পঙক্তি।

অতৃপ্ত নয়নে পুড়েছে অবিরাম - তাম্র তপোবনের শাখা, বিদগ্ধ রাতে
নগ্নতার উত্থান -পতন, ভিক্ষে চেয়েছি জীবন; আপন রক্ত মাখা হাতে।

অবিরাম উপেক্ষিত হয়ে আসছি সেই জন্ম জন্মান্তরের পরতে পরতে
কবেকার প্রাণের স্পন্দন থমকে আছে আজো ; অচেনা শঙ্খ- শালিকের ঠোঁটে।


দা উ দু  ল   ই স লা ম।
৩/৬/১৬

বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০১৬

অধীর অবক্ষয়



দীর্ঘ সমুদ্র উবে গেছে বুকে জমানো দীর্ঘশ্বাসে
লুপ্ত তরঙ্গ -জোয়ার চুকে গেছে মলিন সন্তাপে,
নতজানু অন্তরীপে। চোখে বিধেছে শোকের ভার
এভাবে আমার অধীর অবক্ষয়; অকূল অন্ধকার!
রক্তললাট ঠুকে ঠুকে রঞ্জিত করি ইশ্বরের চরণ
নৈবদ্যের বুকে মন্থিত জিকির; ইয়ারব ইয়ারব ...
থেকে থেকে ডুকরে উঠে প্রাণের ক্রন্দন-
প্রভু হে-
এবার উদ্ধার করো;
না হলে ঘোষনা দাও মৃত্যু উৎসবের-


দা উ দু ল ই স লা ম ।
২৬/৫/১৬

সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১২

সূর্যের দ্বিধা


সূর্যালোকে লজ্জা লুকানো দায়
 কিন্তু সূর্যাস্তের পরে সোনালী রশ্মি পাবে কোথায়
বলেছিলে সূর্যের কণায় ভরাট করবে বুকের উপত্যকা
কতদিন যাবত আমি ক্রমে ক্রমে সূর্যের সাথে গড়েছি সখ্যতা
মর্মে মর্মে বুঝেছি কেন তুমি চাও সূর্য কণার পূর্ণতা।
অবিশ্রান্ত ঝর্না ধারায় সূর্য কণারা লুটোপুটি খায়
তুমি নাহয় ঝর্নায় আসো
ঝর্নাস্লানে সিক্ত হতে হতে ঝর্ণার দ্রবীভূত সূর্যকণায় বুক ভরো
আমি তোমার লজ্জা ঢাকা চাদর হয়ে রবো ক্ষণ।

ঝর্নার ধরাপ্রাতে খনিজ স্বাদের তৃপ্তি পাবে
বুকের গুপ্ত দেরাজ গুলো খুলে রেখো
আগামী সুখের জন্য সেসব তুলে রাখবে.........

তুমি চাইছো বলেই এত্ত সব আয়োজন
সূর্যকণায়  আকণ্ঠ মোহ অথচ সূর্যেই সমস্ত  দ্বিধা
আমিতো সেই কবে থেকে পান করছি নিষিদ্ধ সব সুধা
জেনে শুনে বাড়াচ্ছ কেবল নিজের সর্বভুক ক্ষুধা।




মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১২

জলের উপর পড়েছে তোমার ছায়া

 
জলের উপর পড়েছে তোমার ছায়া
******************
গোপনে একান্ত সঙ্গোপনে বেড়ে চল্লো বুকের স্পন্দন
জলের উপর পড়েছে তোমার ছায়া তরঙ্গে প্রমত্ত অনুরণন
সোনা রোদ্দুর যৌবনের ভেসে যাওয়া উন্মত্ত চিত্ত
... বালির সৈকতে আছড়ে পড়ে ঢেউর মকুট অনন্ত অবিরত…

বুকের পাশে রেখেছো আমার মুখ, নিজের সমস্ত সুখ
হাসতে হাসতে উজাড় করেছো জীবনের এক একটি বসন্ত
অথচ; আমি তোমারই ছিলাম
তোমারই ছিলাম দুঃখের নিকষ অমানিশার চেরাগ হয়ে
হৃদয়ের বিবাগী খর স্রোত নদীর কূল বেয়ে উঠে আসা আশা নিয়ে
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘূর্ণিঝড়ের মত তুমিই ফিরিয়ে নিলে মুখ
বুকের পাশে রেখেও রাখলেনা বুকের মাঝে
যেখানে অংকিত আমার আজন্ম জীবনের সুখ।

অপেক্ষার কথা বলছো?
জানি, কেঁদেছও অপেক্ষাতে মরতে মরতে
শুধু ফিরে দেখলেনা
অনন্ত পথের দুর্গম বাঁক ভাংতে ভাংতে এই পথিকের দুর্লঙ্ঘ্য দুর্ভোগ

উৎসর্গঃ দূর বাসী থেকে যে আমার কানে কানে বাজায় কবিতার ফিসফিস

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

জমে যাচ্ছি পাথরের মত



জমে যাচ্ছি পাথরের মত
জমে যাচ্ছে সুখ,দুঃখ, দীর্ঘশ্বাস ব্যতীত আরো ক্ষত সমস্ত
নরম কোমল হৃদয় হতে ক্ষয়িত রক্ত
লাল মেঘের মত পরতে পরতে ঠাঁই নিচ্ছে অনন্ত বুকে
জমে যাচ্ছে বরফ স্বচ্ছ এক একটি শোকার্ত অশ্রু;
স্মৃতির মলাটে জমে আছে যাপিত জীবন
রঙ বেরঙের বিচ্ছিন্ন স্বপন।
প্রেমময় সুখ চিহ্ন, চুম্বনের বিবর্ণ দাগ, কান্নার রেখা
জমে জমে ক্রমেই হচ্ছে পাথর নির্লিপ্ত
দেখার কিছুই নাই
বারে বারে ফিরে চায় তবু বরফ গলা পথের শাখায়
এবার একটু শীতলতা চাই, একটু প্রশান্তি চাই।
বরফের ধর্ম কি- জমে যাওয়া না গলা
এক টুকরো বরফ হতে চেয়ে আমি আজ বড্ড দোদুল্যমান…

জমে যাচ্ছি পাথরের মত



জমে যাচ্ছি পাথরের মত
জমে যাচ্ছে সুখ,দুঃখ, দীর্ঘশ্বাস ব্যতীত আরো ক্ষত সমস্ত
নরম কোমল হৃদয় হতে ক্ষয়িত রক্ত
লাল মেঘের মত পরতে পরতে ঠাঁই নিচ্ছে অনন্ত বুকে
জমে যাচ্ছে বরফ স্বচ্ছ এক একটি শোকার্ত অশ্রু;
স্মৃতির মলাটে জমে আছে যাপিত জীবন
রঙ বেরঙের বিচ্ছিন্ন স্বপন।
প্রেমময় সুখ চিহ্ন, চুম্বনের বিবর্ণ দাগ, কান্নার রেখা
জমে জমে ক্রমেই হচ্ছে পাথর নির্লিপ্ত
দেখার কিছুই নাই
বারে বারে ফিরে চায় তবু বরফ গলা পথের শাখায়
এবার একটু শীতলতা চাই, একটু প্রশান্তি চাই।
বরফের ধর্ম কি- জমে যাওয়া না গলা
এক টুকরো বরফ হতে চেয়ে আমি আজ বড্ড দোদুল্যমান…

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১২

তবুও যাবো জ্যোৎস্নায়



তবুও যাবো জ্যোৎস্নায়
***********
জ্যোৎস্না আমাকে উন্মুক্ত করে দিতে চায়
বিহঙ্গীর মতো উড়িয়ে নিতে চায়
 আমার ভেতর আমাকে তলিয়ে দিতে চায়
উদ্ভ্রান্ত যৌবনের সরীসৃপের তাড়ায় আমাকে তাড়িয়ে নেয়
বন বাদড়ের ভেতর দিয়ে
উত্তপ্ত মরুর উপর দিয়ে
অক্ষান্ত সমুদ্রের বুক চিরে
অজানা অচেনা এক নীল সীমান্তে
আমি উচ্ছল চিত্তে অবিরল চঞ্চলতায়, বেমালুম মুগ্ধতায়
ছুটে চলি প্রলুব্ধ পথে...

গুপ্ত ভীষণ গুপ্ত কিছু মোহে
জ্যোৎস্নার জ্বল জ্যান্ত চাকচিক্যের প্রভায়
উগ্রে দিই দ্বিধাহীন ভালোবাসার সমস্ত আরাধনা
রাতের মিহি হাওয়া বিরহী কান্তে কানে কানে এসে বলে যায়
জ্যোৎস্নার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অমানিশার ছলনা
ততক্ষণে আমি লণ্ডভণ্ড
লুণ্ঠিত আমার সঞ্চিত স্বপ্নের পবিত্র হৃদয় ভূখণ্ড
নিঃশেষ প্রায় আশা নিয়ে প্রাণ-প্রদীপ নিভু নিভু
চৈতন্যের হৃত আলোয় বেচে থাকে যেটুকু সঙ্কল্প
নিবিড় মমতায় কবিতার হাত ধরে ফের উঠে দাড়াই।

জানি জ্যোৎস্না আসবে ফের
আমিও ফের হবো বিগলিত। চকিত চঞ্চল উচ্ছলতায়
জানি ফের লুণ্ঠন হবে আমার হৃদয় বাগিচা
তবুও যাবো জ্যোৎস্নায়
তবুও খুঁজবো অজানা সেই সুরা,
যার তৃষ্ণায় মাতাল আমি বার বার।

সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১২

ফেরার জন্য আমি আসিনি//হিমুর জন্য উৎসর্গ

চন্দ্রের চিবুক বেয়ে নামছিলো শব্দের ধারা
ঘুমন্ত বৃক্ষের বুক ঘেঁষে জেগে আছে নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস
পৃথিবীর শরীরে আজ বড্ড অসুখ, জরা
কবিতার বিদীর্ণ খাতা বুকে চেপে স্বপ্নরা খুঁজে নেয় আপন নিবাস।
শব্দরা খানিক ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ
বৃক্ষের স্পন্দনে ফিরে আসে দূরে সরে যাওয়া নিগূঢ় কষ্ট
চন্দ্রহারে স্পষ্ট হয়ে উঠে বিলুপ্ত কাব্যের এক একটি ছন্দ
আমি হাত বাড়িয়ে আগলে নিতে যাই দু’হাতের করতলে
সুখ নয়
আনন্দ নয়; দু হাত পূর্ণ হয়ে যায় শীতল অশ্রু জলে-
ফেরার জন্য আমি আসিনি
ফিরিয়েই তবে ফিরবো যা কিছু আজ হারিয়েছি
এতদিনের পূজার আসর
সাজিয়ে যাবো আগামীদিনের পবিত্র বাসর
স্বপ্নের অধিকারেই সাজাবো স্বপ্নিল পৃথিবী
শব্দের অধিকারেই আমি হয়ে যাবো কালজয়ী কবি।

মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১২

পাপিষ্ঠ সত্ত্বা


 
একটু একটু করে বৃক্ষ শেকড় গড়ে মাটির বুকে
একটু একটু করে সুখ অসুখ বুঝতে শিখে
ভেদ বিভেদ ছেড়ে সুক্ষ্ণ ঋতপত্র রচনা করে যে হাত
ভ্রষ্ট বিশ্বাসের উলঙ্গ নৃত্যে কি করে হবে উন্মাদ!

বুকে হেঁটে ধুকে ধুকে পাড়ি দেয়া  যাপিত জীবন-পথ প্রান্তর
হৃদয়ের রক্তে রঞ্জিত সরল রেখায় বিক্ষিপ্ত দুঃখের কৃষ্ণ গহ্বর
ইতস্তত ভালোবাসা, লজ্জিত আদর্শ, চেতনায় বিস্তৃত মরীচিকা
মানুষ হয়ে জন্মেছি বীর বেশে; মানুষ হয়ে পাবো কি মৃত্যুর দেখা।

 জীবনের আয়নায় ক্রমে ক্রমে জমেছে যে ধুলো আবর্জনা
জল কজ্জল কিংবা রক্ত-ঘামে তা ধোয়া সম্ভব না
অনিশ্চয়তার হাত ধরে অন্ধের মতো এগুচ্ছে পাপিষ্ঠ সত্ত্বা
মানুষের কাতারে হবে কি স্থান ! সত্যি জানিনা সে কথা।

শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১২

স্রোতের বুকে উত্তাপ



এক নদী জল
অগ্নি-লাভা মিশে হলো অনল
স্রোতের বুকে উত্তাপ
প্রেয়সীর চোখের ঘুম কেড়ে নিলো।

ছুঁতে পারিনি জ্বলন্ত তনু
উষ্ণতায় গলেছে প্রমত্ত যৌবনের মোম
নিবিড় হতে হতে গিয়েছি দূরে
নিভৃতে ঝরেছে যন্ত্রণা তীব্রতম।

গ্রীবার নীচে নীলচে কালো তিল
ডেকেছে বারবার তোমার কাছে
উত্তেজনায় ছুটেছি তীব্র বেগে
ভাষা হারিয়ে হয়েছি নির্বাক গভীর আবেগে।

গলিত লাভায় তোমার ক্ষেপাটে যৌবন
ছুঁতে পারিনি খুঁত খুঁতে দ্বিধায়
 তীরে বসে দেখেছি বিক্ষিপ্ত ভাঙ্গন তাণ্ডব
নিজেও হয়েছি চূর্ণ বিচূর্ণ দেখোনি তুমি সেসব।

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১২

তোমার শীতল করতলে

এই আষাঢ়, গাঢ় নীল শাড়ীতে নিজেকে সাজিও স্নিগ্ধা
কতদিন ভাসাইনি ভেলা দীঘল নদীর স্রোতে;মুগ্ধতায়
বিমোহিত চুম্বনে মেটাইনি তৃষা জ্যোৎস্না প্রবণ রাতে।
প্রাণপদ তাড়নার বাণে ভেসে গেছে যৌবনের রণপ্রপাত
কেবল তোমার বর্ষাস্নাত চুলের সুগন্ধ মাখা নিঃশ্বাসের বুভুক্ষে
নির্জলা ফাল্গুন, উম্মুল অনল পারেনি ফেরাতে সেই মশগুল হতে।
ঝির ঝির হাওয়ায় বৃষ্টির ভেজা সুবাস,সুকোমল স্থিতি
তোমার বুকে আগলে নাও কুসুমিত সেই নির্যাস
প্রাণের উদ্ভাসে আমি খুঁজে নেব জীবনের সুখোষ্ণ প্রশান্তি
যাপিত জ্বালা মিটিয়ে পূর্ণানন্দে রচনা করবো প্রমিত উচ্ছ্বাস।
                                      শীতল করতলে গ্রহণ করো পঞ্জি-ভুত আমার এই উষ্ণতা
                                      বিনিময়ে বুকের চাতালে এঁকে দেব চিরদিনের সুখ-সখ্যতা।