বুধবার, ২৫ মে, ২০১৬

দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস: সংক্রামক কাব্য

দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস: সংক্রামক কাব্য: অমর্ত্যের অপ্সরা আমার তোমার রহস্যে ভীত জগতের রহস্যরা অতলের আহ্বানে এতো অতলান্তে আমি আজো পাইনি সীমান্ত তোমার হৃদয় অধরা অস্তিত্বে লীন হতে ...

সংক্রামক কাব্য


অমর্ত্যের অপ্সরা আমার
তোমার রহস্যে ভীত জগতের রহস্যরা
অতলের আহ্বানে এতো অতলান্তে আমি
আজো পাইনি সীমান্ত তোমার হৃদয় অধরা

অস্তিত্বে লীন হতে হতে একদিন হার মানবে রহস্যরা।

রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৬

ছলনার মোক্ষম ছদ্মবেশ



ছলনার মোক্ষম ছদ্মবেশ
===ღ===
বিষে যার তৃষ্ণা মিটে
তুমি তাকে তিক্ত করবে কোন বিষাদে?
জানো না-
দুঃখ নিষিক্ত অন্তরে অন্ধকারের ভয় থাকতে নাই।
আমি তো ভালোবাসতেই জানিনে; তবে
কিসের এতো লালসা তোমার
কিসের নেশায় বার বার খোঁচাচ্ছো হৃদয়!
চোখের বাঁকে বিষ মাখা উলঙ্গ তলোয়ার; হতাশ হবে
সর্বনাশ ঝেঁকে বসবে! আমি নই পাশা পুতুল খেলার!
আমি রুধীরাক্ষের রঞ্জিত অগ্নি, 
-বিষ পানে মেটাই জলের তৃষ্ণা নিরবধির
অনিষ্টের কষ্ট আমি; সর্বনাশের ভস্ম থেকে গড়ি স্বপ্নের স্বর্ণ মন্দির।
তুমি খেলতে এসো না- লুণ্ঠন হবে!
আমি জেনেছি, -
ভালোবাসা গুপ্ত লালসা আর ছলনার মোক্ষম ছদ্মবেশ!
আড়ালে যার বিষাদের নিমিত্ত যাতনা, 
জোছনায় মোড়ানো অমাবস্যার নীল ক্লেশ।
আমাকে পরাস্ত করবে কিসে? আমি তো বাঁচতে জানি
অশেষ কষ্ট আর বিষাদের বিষে; মেটাতে জানি হৃদয়ের গ্লানি।
ღ===ღ===ღ===ღ===ღ===ღ==ღ
দা উ দু ল ই স লা ম ।
২৩/৪/১৬

মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০১৬

অধরার নির্বাণে


অধরার নির্বাণে

চৈত্রের ঠা ঠা দুপুরেও ভাঙ্গেনি তীর্থের ধ্যান
পোড়া মাটির গন্ধ, আর বুক জুড়ে খা খা মরু উদ্যান।
কাল- মহাকাল ধরে জুড়েছি সম্বন্ধ; আত্মার সাথে পরমাত্মার,
গেরুয়া বসনে, সূর্যমুখী এই নৈবদ্যের আসনে খুঁজেছি মৃণ্ময়ী সুখ;
বুঝি নি কখন নিজের অজান্তে,
অধরার হাতে সঁপেছি আমার জগত- আমার সংসার।

 দৈবক্রমে একবার দিয়েছি উঁকি প্রাণের গহীনে
ফুলেরা ঘুমিয়েছিল ফুলবনে, আমার আত্মা জানে
জোনাকির আলিঙ্গনে তারার শানকিতে এঁকেছিলো যে মুখ, 
আত্মার স্পন্দনে, যৌবন প্রবণে দেখেছিলাম উন্মুখ
এমনিই লাজুক লতার;  আর পাইনি দেখা তার।

আমি তো  রুষ্ট, পাপিষ্ঠ, পথভ্রষ্ট, স্বেচ্ছাচারী
তপস্যার নিবিড় রোদনে; অধরার নির্বাণে স্পষ্ট-
বুঝলাম তুমিও নও কম অহংকারী!

দাউদুল ইসলাম।
২৯/৩/১৬

শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৬

প্রিয় অরুণ সেন

   প্রিয় অরুণ সেন
   

চৈত্রের রোদ শাসানো সকাল কে দিয়ে গেলেন শেষ আলিঙ্গন
রক্ত রঙ্গন চোখে অনন্ত নিদ্রা জড়িয়ে চির তরে ঘুমিয়ে গেলেন
প্রিয় কবি "অরুণ সেন"
ঋতপত্রের রবীন্দ্র সংখ্যার প্রচ্ছদের মত -
সহস্র আবেদন জ্বল জ্বল করছে কবির নিষ্প্রভ অঙ্গ ,
ঠিক যেন নতুন রূপে রচিত হয়েছে 'শঙ্কায় নিনাদে শঙ্খ'!

সত্যি কি চলে গেলেন ? নাকি-
'রুদ্র গেছে রোদের বাড়ী'; যেখানে অরুণ সেন
জীবন আর কবিতার আড়াআড়ি স্বপ্ন আঁকেন!


দাউদুল ইসলাম।
২৫শে মার্চ ২০১৬ 

অরুণ সেন আমার গুরুঃ
-------------------------------------
 ‘ঋতপত্র’সম্পাদক কবি অরুণ সেন আর নেই। শনিবার সকাল নয়টায় তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

আজ খুব করে মনে পড়ছে ১৯৯৪ সালের বৃষ্টি ঝরা একটি দিনের কথা, চট্টগ্রাম জুবলী রোড়ে কবির অফিস কাম
পটো কপি মেশিনের কারবার চালাতেন, ঋতপত্রের ভক্ত ছিলাম তখন খুব;  আমি গিয়েছিলাম তখনকার সময়ে আমার ভেতরকার কাব্য উন্মাদনা নিয়ে,
সে দিন ছিলো ২য় বারের মত ওখানে যাওয়া। প্রথম বার গিয়েছিলাম তারো সপ্তা-খানেক আগে, সে দিন পরিচয় আলাপের পর কবির হাতে নিজের ক'খানা ডায়েরী তুলে দিয়েছিলাম, কবিতা বলে যা লিখেছি তা আদৌ কবিতা কিনা পরখ করে দেখার জন্য, তো-
২য় বার যেদিন গেলাম সেদিন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে কবিকে দাদা ডাকছি , খোশ গল্প করছি। এক ফাঁকে কবিতার কথা জানতে চাইলাম, দাদা যা বললও তাতে বুঝলাম উনি বেশ মনোযোগ সহকারে আমার ডায়েরী গুলো পড়েছেন।
তারপর সেই বৃষ্টি মাথায় আমায় নিয়ে ছুটলেন, জলসা সিনেমার পাশে রিক্সা থামাতে বললেন,  কারেন্ট বুক ল্যান্ডের দাদাদের সঙ্গে আমার পূর্ব সখ্যতা ছিলো, কবির সাথে আমাকে দেখে কবির উদ্দেশ্যে ওনারা বলেছিল, আরে!
 একে (আমাকে) কোত্থেকে আনলেন?
দাদা হাসতে হাসতে জবাব দিলো, জাত ভাই ।

সে দিন দাদা আমার হাতে ছন্দের বারান্দা, কবিতার ক্লাস, বাংলা কি লিখি কেন লিখি বই গুলো তুলে দিলেন। বললেন
মনোযোগ দিয়ে আগে এসব পড়, লিখার অনেক সময় পাবে।
তারপর বুক ল্যান্ডের চা সিঙ্গারা খেয়ে বিদায় নিলাম।
 সে দিন থেকে অরুণ সেন আমার কবিতার গুরু।
কারণ যদি সেই তিনটা বই আমাকে না ধরিয়ে দিতেন তাহলে আসলেই কখনো কবিতার 'ক' বুঝতাম না।

এর পর শহরে গেলে দাদার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করতাম।
হেমসেন লেনের বাসায় নেবার জন্য এক দিন খুব জোর করলেন, কি  কারণে জানি যাইনি।

তারপর  নিজের ব্যস্ততা আর
জীবন সংগ্রামের এক পর্যায়ে ছিটকে পড়লাম। কিন্তু  কবি অরুণ সেন কে আমি আজীবন গুরু মেনে এসেছি।
আজ তাঁর মহা প্রয়াণে আমি আমার হৃদয় নিংড়ানো প্রার্থনা করি-
স্রষ্টা যেন কবিকে শান্তিতে রাখেন।
আর কবি যেন আজীবন বেঁচে থাকেন আমাদের অন্তরে।

দাউদুল ইসলাম।
২৬মার্চ ২০১৬

মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০১৬

অতল ১


ক।

অতল ছুঁয়েছে জল।
বাঁধ ভেঙ্গেছে পূর্ণিমা চাঁদ
ভেসে গেছে গুপ্ত চর,
কুসুমিত মখমল।

খ।

এক বছর পর বিয়ে।
ঘর , বর ঠিক হয়নি যদিও-
এত আগাম নেমন্তন্ন পেয়ে
না বলা  সব কথা
বুঝে গেছি আমিও।

গ।

অহম ভোগাচ্ছে তোমায়
মন পোড়াচ্ছে মন।
  

দাউদুল ইসলাম।
৭ই মার্চ '১৬

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০১৬

পলাশ সম্ভোগ

পলাশ সম্ভোগ
----------------
রূপে তোর মহামায়া 
নেশা ভরা ঘোর চোখে বাল্মীকি রোদ জ্বলে
মাতাল করা গন্ধে বিভোর আমি-
নিজেকে হারাই তোর উথাল পাতাল চুলে।
তাপে উত্তাপে হই উদগ্রীব বিরহী বিলাপে
বুকে তোর ধ্রুপদী সকাল, আড়ালের হিমে কাঁপে;
স্বপ্ন ফোটা উচ্ছ্বাসে
কমুদীনি সুবাস ভাসে প্রজাপতির বাগে,আগলের ঝাঁপে
বর্ণাঢ্য ফাগুন; লাজ লজ্জা ভুলে, মেতে থাকে পলাশী সম্ভোগে!
দ্বিগুণ মন্থনে উত্থিত আগুন
যদিও বুকে ধরে রেখেছিস বসন্তের একান্ত কোমলতা,
তোর অন্তরে বেঁধেছিস পূজার ঘণ্টা; প্রতিমার চোখে
সীমাহীন পিয়াস জাগে!
আমার চেয়ে বেশী কে আর জানে তা?

দা উ দু ল ই স লা ম ।
৩/৩/১৬