সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

চল... বৃষ্টি মোহন জোছনায় নামি

চল, বৃষ্টি মোহন জোছনায় নামি 

 বৃষ্টি মোহন জোছনায় নামি চল
চোখের অতলে টলকে উঠা নেশার মাদকতায় চলো ভিজি , 
যৌবনের উচ্ছল সম্মোহনে চল দু'জনে মিলে বৃষ্টি চুমি   !

দেখো শিউলি ঝরা উঠোনে বুদ বুদ নৃত্য
রতি মত্ত পতঙ্গের মত 
মুঠো মুঠো জোছনা আর বৃষ্টির অদ্ভুত আলিঙ্গন!

চল, ভিজিয়ে নিই আগুনের হল্লামাখা বহুদিনের পুরনো দহন
ভিজিয়ে নিই বুকের শ্মশান, উতলা চপলে কদর্মাক্ত জলে
বিলিয়ে দিই আমাদের রুক্ষ অতীত! সতত জোছনায় , বৃষ্টির নিনাদে
চল উন্মুক্ত হই দুর্মদ অবাধে।

বহুকাল ধরে নিঃশ্বাসের যেই অস্বস্তি আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে
সেই নিঃশ্বাসে আজ তোর চুলের বন্য সুবাস নিতে দে,
নির্বাণ দহনে বুকের যেই গ্রন্থি এত কাল ছিলো রুদ্ধশ্বাস!
জোছনা চাদরে আজ তাকে পেতে দে ভরা বৃষ্টির  আস্বাদন;
তুই ও ধুয়ে নেয় সাত জনমের কষ্টের কাহন, নির্লজ্জ খিদে;
 প্রাণের তাগিদে- প্রাণ ভরে পুঁতে দে বিরহী অস্তিত্বের সন্তরণ !

দাউদুল ইসলাম
৯/৭/১৫

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কে কাকে পোড়ায় বলো

কে কাকে পোড়ায় বলো?
-------------------------------------
কে কাকে পোড়ায় বলো। খরা না অগ্নি।
তিক্ত সুরা পাত্র খালি হতে থাকে। নিগূঢ় আঁধারে জীবনের বহ্নি শিখা।
রক্তের লালিমায় বিচ্ছুরিত আলো। প্রেমের উৎপ্রেক্ষা প্রতিমা।
প্রদীপের নিচে ভীষণ কালো ক্রোধ। আগ্নেয় গিরির বিস্ফোরিত মুখ।


কে কাকে পোড়ায় বলো-
বুভুক্ষার মুখ থেকে যখন ছিনতাই হল প্রাণরক্ষার শেষ গ্রাস
যখন চৌরাস্তার ল্যম্পপোষ্টের নিচে পড়ে থাকে যুবতীর রক্তাক্ত লাশ!
যখন প্রসব বেদনার আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠে আকাশ বাতাস... আর 
তার আগেই গুলিবিদ্ধ হয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায় অনাগত সন্তান
পুড়ে পুড়ে অঙ্গার হতে হতে তখনো আমি দেখে যাচ্ছি নপুংশকতার উল্লাস!



বলো-
কে কাকে পোড়ায়? ক্ষুধা না দ্বিধা?
সারা রাত বাইজী নৃত্যের পর প্রাণের সঙ্গে বাধ্যগত প্রাণের সওদা, 
বোধিশুদ্ধ নীতি কথা কিংবা যতো দার্শনিকতা -
একে একে সবিই ব্যার্থ যেই শূন্যতার সামনে, সেখানে নিতান্তই হাস্যকর
আমার মত ছাপোষা কবির কবিতা !


কে কাকে পোড়ায় বলো?

ঃ
ঃ
ঃ
কবিতার খাতায় নীরব অশ্রু, অঝর ধারায় নেমে এলো।


দাউদুল ইসলাম
১/৯/১৫

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৫

গুপ্ত ছুতোয়



মানসী হে
মেঘের মখমলে নিজেকে তুলে রেখেছিস 
আমাকে ডুবিয়ে অগাধ বিরহে!
আপন মনে নিকষ নির্জনে, যা'চ্ছে তা বকে যাচ্ছিস
ভেবে যাচ্ছিস, আমাকে দেখিস নি ফিরে;
দূরে ... বহুদূরে ভেসে আসে, মানসী তোর বালখিল্য হাসি
রোদ শাসানো চোখের কোটরে বাল্মীকি প্রহেলিকা
কেউ না জানুক, আমিতো জানি জন্মেই তুই আধজনমের ভুখা।


ভালোবাসার গুপ্ত ছুতোয় দহন নিষ্পত্তির অবকাশ
মানসীরে...... ও  মানসী
বলতে পারিস? শেষ কখন নিজেকে দিয়েছিস সত্যের আশ!
এত মিথ্যা!
এত গ্লানি!! বলতে পারিস?
ছাল ছতুরীর কোন ফাঁকে  লুকিয়ে রাখিস অদম্য দীর্ঘশ্বাস!!

পারিস বটে!
রক্তরাগের খর স্রোতায় বৈঠা হাতে ডিঙ্গি বাইতে
বাঁকের পর বাঁক ফেরিয়ে হারিয়ে যাচ্ছিস আত্মছলনার গহীনে!
নিভে যাচ্ছিস, 
চুকে যাচ্ছিস.........  জেনে শুনে দেখে যাচ্ছিস;
অশ্রু শুকানো কট মট নয়নে ......জীবনের প্রয়াণে।

দা উ দু ল  ই স লা ম।


শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৫

আত্মঘাতী অবহেলায়

 
আত্মঘাতী অবহেলায়
....................................
সমমর্মীর স্নেহ ময়  হাতটি সরিয়ে নিলে নিঃশব্দে ,
 তুমি জানতে সে হাত সরে গেলে আমি আত্মহারা হবো, 
ক্ষুধার্ত সিংহের মত তর্জনে গর্জনে প্রলাপ বকবো,  
জানতে বলেই এমন আঘাত হানতে পারলে...... ঠিক কুপোকাত, ঘায়েল, জখম......
আবার ফিরে গেলাম বিমর্ষ জরায়;আবার আমার তনু মনে বাড়তে লাগলো দহনের জ্বালা-

অনর্গল মিথ্যা বলতে একটুও বুক কাঁপেনি তোমার
চোখের নীল কর্নিয়া কিংবা ভ্রু কুঁচকায় নি
সুদক্ষ জল্লাদের মত নিটোল, পাথরের মত নিরুত্তাপ, অথচ কতো নির্মম সেই চাহনি...

ভাঙ্গনের তীব্রতা থেকে অধিক তোমার বিচলিত অস্থিরতা...
মনে প্রাণে কামনা করেছিলে আত্মহুতির ভয়ানক খবরের!
কিন্তু জীবন ছিল আমার
ছিল মনুষ্যত্বের এক ফালি বিবেক...আর অজস্র  জীবন্ত স্বপ্ন;
এত সহস্র আঘাতে
বেদনা জর্জরিত হতে হতে কোন ভাবেই নিজেকে শপে দিইনি জল্লাদের হাতে!

হাহাহাহা ...  জীবন তোমাকেও চিনলো বেশ
নির্ঘাত দগ্ধতার কথা জেনেও শেষ হয়না বাঁচার আক্ষেপ।

দা উ দু ল   ই স লা ম।

১৫/৮/১৫

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৫

প্লাবনে প্লাবনে ভাসিয়ে নিস অতল নির্বাণ

প্লাবনে প্লাবনে ভাসিয়ে নিস অতল নির্বাণ


 আবেগের সাবেক রূপে তোরে দেখিনা
নিরাবেগ রুক্ষ মুখে পুরনো কষ্টের কর্কশ চিহ্ন!
ওহে  পুরনো মানুষ-
তোর অগ্নি উচ্ছল চোখে একি বিষণ্ণ, ভিন্ন দৃষ্টি!
ঘোরে অঘোরে এ কেমন উগ্রতা তোর
বলতে পারিস ...... এ কেমন অশান্তি?

হায় হায়!
কবেকার সাবেক সত্য- তোর সামনে দাঁড়িয়ে আছে ঠায়
ওহে সাবেক, হে ভাবাবেগের পরমাত্মা
বলতে পারিস কি চাস? কিসের দায়ে ছাড়িস দীর্ঘশ্বাস?

জমছে মেঘ!
বাঁধছে দূর বহুদূর পাখির নিবাস
পারিস যদি নামিস সেই মেঠো পথের কাদায়
দ্বিধা - নির্দ্বিধায় ভিজিস একবার 
ভিজিয়ে নিস ঢের রুক্ষ বিমূর্ত মুখ
ভিজিয়ে নিস যক্ষের ধন বিলুপ্ত অহংকার!

জানিস না? বৃষ্টি প্রতিদান চায় না!
ভিজিয়ে নিস বুক, ইচ্ছের বিপুলা কান্নায়
ছুঁইয়ে নিস চিবুক, ঠোঁট, বিদীর্ণ উদ্যান
যেখানে যতো রুক্ষতা, উষ্ণতা
প্লাবনে প্লাবনে ভাসিয়ে নিস অতল নির্বাণ।


দা উ দু ল  ই স লা ম ।
৯/ ৮/ ১৫

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০১৫

শাশ্বত সুন্দরের মৃত্যু


কত কিছুই জানা হয় না, জানা যায় না। কেন-
প্রতিদিনের সেই একি জানালায় ঝুলে থাকে ভাঁজ করা চিবুক।
কেন, এক জন যুবক
অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে তুলে আনে নিত্যনতুন অসুখ!
কেন  বিদীর্ণ ভাস্কর্যের চেয়ে ঢের ম্লান হয় মানুষের মুখ ।
কতটা নৃশংসতায় ক্ষান্ত হয় নপুংসক হায়েনা
জানা যায় না- তুষের অভ্যন্তরে কতটা উত্তাপ
প্রগতির শৃঙ্খল ভেঙ্গে সৃষ্টি হয় দীর্ঘশ্বাসের ঘূর্ণি চাপ।

জানো কি?
কতটা  দহন হলে একটা জীবন আকুতি করে মৃত্যু কামনায়!

দা উ দু ল   ই স লা ম।
৭/৮/১৫

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫

রাত্রি নাই

রাত্রি নাই

অনন্ত কাল ধরে আমি সন্ধান করছি একটি রাত্রির।
 সভ্যতার অভিজাত বাসিন্দারা যার ধার ধারে না
দিন বিগত সন্ধ্যার আগমনে যেখানে নিমগ্ন ব্যস্ততা নামে
জমকালো জলসায় , মিথ্যার কটকটে রঙ ঢং, হাস পরিহাস
সেখানে রাত্রি নামার সুযোগ কোথায়?

রাত্রি  চায় , তার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।
মানুষের আত্মা, চিন্তার নিমজ্জিত ভাবার্থ, আর সমগ্র সাধনা
রাত্রি সহ্য করেনা কোন সপত্নী;
যাবত কালের সমগ্র দাবী উপেক্ষা করে
জীবনের সুপ্ত- দীপ্ত সমস্ত কামনা বাসনায় একাকার হতে
বহুকাল ধরে বিশ্বাসের গভীরতায় জপ করে চলেছি সেই রাত্রির তপস্যায়...।।

জীবনের নিবিড় কোঠরে কষ্টের অগণিত জখম,
প্রাণের স্পন্দনে দুঃখী শব্দাবলীর অথই হাহাকার;
উত্তপ্ত দিনের প্রখর রোদ্দুরে বরফের মত বিগলিত হতে হতে
কিংবা ঝড়োন্মাদ প্রলয়ের ঘাত প্রতিঘাত বুকে ধারণ করে
প্রতিদিনের অতৃপ্তি, অনিশ্চয়তা আগলে নিই স্বাচ্ছন্দ্যে।

প্রতি বারই মনে হয় জ্যোৎস্নার সোনালী সিম্ফনিতে এই বুঝি এলো সে,
অভিমানী রাত্রি বার বার মুখ ঘুরিয়ে নেয়, নাকি লুকিয়ে যায়?
নিজের অস্তিত্বে লেগে থাকা সম্ভোগ চিহ্ন আড়াল করতে!
জানি না-
এত সব হিসেব নিকেশের প্রশ্ন-আমার কোনদিন জাগেনি
আমি কেবল মন প্রাণ উজাড় করে খুঁজেছি সেই প্রগাঢ় রাত্রি।

নীল স্রোত আর জ্যোৎস্নার ধ্রুপদী নৃত্যের সমস্ত পবিত্রতা খর্ব করে
বেজে উঠে ঠুমরীর গর্জন;
রাত্রি নাই!
মন্থন শেষে ভয়ংকর ঘূর্ণিতে পাক খেতে খেতে নিঃশেষ জীবন যৌবন।

দা উ দু ল  ই স লাম।
৫/৮/১৫