বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬

কোন রঙে আঁকবো তোমাকে



কোন রঙে আঁকবো তোমাকে, কোন রঙ রয়েছে বাকী?
তোমাকে এঁকেছি কাঠ পেন্সিলে, জল রঙে, তৈল চিত্রে...
এত বার... এত রঙে এঁকেছি যে-
আমি হারিয়ে ফেলেছি তোমার আসল চেহারা...মুখচ্ছবি;
তোমার একেক বার একেক রূপ, একেক বেস, একেক ঢঙ
আমাকে দ্বিধান্বিত করে দেয়;
আমি আঁকতে পারিনা সমন্বিত তোমাকে!

তোমাকে বাঁধতে পারিনি  স্বভাব সিদ্ধ একক চরিত্রে 
ঋতু বদলের মত তুমি বদলে গেছ ... বদলে যাও বারবার!
আমি তোমাকে তেমনিই আঁকতে চেয়েছি- এঁকেছি
যখন যেমন দেখেছি... কখনো  উদার মমতার আধার , 
কখনো নিষ্ঠুর ফণীমনসার ক্ষুব্ধ ফণায় উদ্যত অহংকার;
কখনো রোদ্দুর ধারার হৃদ্য নীলকণ্ঠ...আবার
কখনো শিশির সিক্ত রক্তগোলাপের মত পরে থাকো স্নিগ্ধ হার!
প্রেমের অনুরাগে কখনো হয়ে থাকো- আমার মৃণ্ময়ী চাদর,
আবার কখনো দুর্মর আগুনে জ্বলে উঠো অচেনা চাবুক হয়ে
ভুলে যার সমস্ত সোহাগ- আদর; মুঠো মুঠো অণু কাব্য ফেলে-
আমাকে  পরাস্ত করো দুর্দশার শৃঙ্খলে! বীভৎস সরোবরে
নিজেকে মেলে ধরো নগ্নতার মর্মজলে...
আমি এত বেশী দ্বিধান্বিত হই যে বুঝতে পারিনা
কোন রঙে আঁকবো তোমাকে- কোন আদলে?

দা উ দু ল  ই স লা ম ।



সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬

আমি জন্মেছিলাম রাহু যুগের কবি হতে



আমি জন্মেছিলাম মাঘের হাড় কাঁপানো শীতের সন্ধ্যায়
কুয়াশা ঘেরা এক ঝাঁক অতিথি পাখির কিচির মিছির
আর মেঘ সাদৃশ্য বৃক্ষের ডগায় জোনাকির অস্থিরতায়,
শিশির ধোয়া জমিন এর সোঁদা গন্ধ মাখা হিমে
 নীল হয়ে উঠা আমার পীযুষ মুখ; পরম স্নেহে
মাতৃত্বের খোমে পেয়েছিলাম প্রথম আমৃত্যু সুখ।

অতঃপর ধীরে ধীরে গভীর রাতের সাক্ষাত
নৈশব্দের জঠরে স্পন্দিত পৃথিবীর ঈষৎ দীর্ঘশ্বাস!
ধ্যান মগ্ন ঋষির নির্লিপ্ত সচেতনতা, নিকষ অন্ধকার,
চাপা কান্নার মত বিলাপ করা বৃক্ষের পাতা, ধাবমান রুহ্‌ ধ্বনি
একে একে চিনতে থাকি মর্মগাঁথা সৃষ্টি; জগত সংসার।
অগণিত চোখের দৃষ্টি রেখা মাপতে মাপতে অদম্য এক স্রোতে
প্রবেশ করি বৃত্তাকার জীবন গহ্বরে ……

অথচ আমি জন্মেছিলাম রাহু যুগের কবি হতে
ভ্রহ্মাণ্ডের গোপন কারাগারে বন্দি দশা হতে
আজন্ম শব্দ গুলো মুক্ত করতে;  পাখীদের ঠোঁটে
কিংবা কোন বাউলের গানে-
যেই শব্দ, যেই সুর,ধ্বনিত হয়নি আজো!

আমি জন্মেছিলাম ছিলাম সেই নদীর স্রোত হতে
কৃষ্ণচূড়ার মতো মদিরা হতে হতে যেই নদী
হারিয়েছিলো তার অধরা যৌবন;
মিথ পোড়া দহনে নিজেকে জ্বালিয়ে
এসেছিলাম আমি,  জাগাতে সেই নাড়িস্পন্দন!

দাউদুল ইসলাম।
২৬/১/১৬

শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬

কল্পলোকের শৃঙ্খলতা ভেঙ্গে



তোমার জন্য ছুটে আসি হন্ত দন্ত হয়ে
শিলা বৃষ্টি মাথায়
ছুটে আসি অবলীলায় অনন্ত বিমোহে,
জানো কেন?
কেন দুটি চোখ রোজ
নীল আকাশের বুকে করে যায় খোঁজ?
জানো না কেন
তোমার চিলেকোঠার কার্নিশে
কল্পলোকের শৃঙ্খলতা ভেঙ্গে বসে থাকে,
বৃষ্টি ভেজা শ্যামলিমা!

কত রঙের স্বপ্ন আঁকা হয় আমার
শুধু বলতে পারিনা-
অনন্য সব শব্দে আগের মত লিখো কিনা
বারতার কবিতা।

জানা হয় না
ঘুম ভাঙ্গা রাতের যন্ত্রণা নিয়ে অন্ধকার হাতড়ে
দাড়াও কিনা, দেয়ালে ঝুলা সেই ছবির সামনে
জানা হয় না
অপেক্ষার প্রহর গুলো এগিয়ে যেতে শিখলো কিনা।

তবু ছুটে আসি
কালের যন্ত্রণা মাথায় নিয়ে মহাকালের প্রান্তরে
ছুটে আসি হে অপ্সরা
তোমারই জন্য। তোমারই গৃহ ধারে।

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬

বিপন্ন লিপি

বিপন্ন লিপি

স্বপ্নশূন্য হয়ে আছি দীর্ঘকাল
অলস অজগরের মত নিথর হয়ে আছি, দৈন্যতা আর-
বেশ কিছু জঞ্জালে চাপা পড়ে আছি অতল শূন্যতায়।
সময়ের তাগড়া ঘোড়া, অসংখ্য গিরগিটি, সরীসৃপ
এবং কি... পিপীলিকার সারি সারি বহর মাড়িয়ে যায়;
মাড়িয়ে যায় ইচ্ছে মতন...
আমি শব্দশূন্য- অক্ষরশূন্য, নির্বাক চেয়ে থাকি অথবা
অদেখার ভান করে সমস্ত উত্তাপ ঢেকে রাখি অন্তরাত্মায়।

কি বলার আছে আমার, কি বলা যায়?
সেই কবেকার অস্ফুট স্বর রুদ্ধ হয়ে আছে নীলকণ্ঠিতে,
ওত পেতে থাকা সবুজ চোখের দানো আর বিষধর সর্প-
রক্তশূন্য দেহে অবিরাম দৌড়চ্ছে আততায়ীর দুর্মার চরণে;
কষ্টের সীমা রেখা ছাড়িয়ে বিপন্ন সংসার-
গুটিয়ে আছে অন্ধকার দ্বীপের তীর ঘেঁষে, সন্ধ্যার জোনাকিরা
দুর্গম পথের গল্প করতে করতে আমার ওষ্ঠেই রেখে যায় 
পিপাসার চিহ্ন, বেশুমার দহন।
কি করার আছে আমার, জানি না- কি করা দরকার...

দূর সাঁওতাল পথে হেটে যাওয়া বাউলের গান-
শান্ত জলধির মতন পিস পিস করে দিয়ে যায় নির্বোধ বার্তা,
আশাহত শিশুর কাঙ্ক্ষিত খেলনার মত প্রিয় পাণ্ডুলিপিরা
অনিকেত দৃষ্টি মেলে বিসর্জন দেয় অজস্র স্বপ্ন-বারতা।
চন্দ্রচ্যুত উল্কা পিণ্ড অথবা কোন উত্তপ্ত শিলা খণ্ড -
পতিত হয়নি এই বুকে;
তবু উপত্যকা জুড়ে এতো অস্থির আগুন, লেলিহান শিখা...
কি করার আছে আমার, জানি না- কি করা দরকার...


দা উ দু ল  ই স লা ম ।
৭/১০/১৬

রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ছায়ার গর্ভে সমাধিত সব

ছায়ার গর্ভে সমাধিত  সব


ছায়া এক অবিচ্ছেদ্য স্বত্তা
জীবনের সাথে সাথে ছায়ারা বেড়ে চলে
জীবন ঘুমালে ছায়ারাও ঘুমায়, আসলে
ছায়ারা বেঁচে থাকে আলো নির্ভরতায়;
তা না হলে ভীত ঢর ফোকের মত 
অন্ধকারে নিজেকে গায়েব করে রাখত না।
জলে ও ছায়া পড়ে
যত স্বচ্ছ জল তত স্বচ্ছ ছায়া
 অথচ, টলমল জল তরঙ্গ তা ভেঙ্গে যায়
নীরব এক শোকের মধ্যে,নির্মম রহস্যবোধের সঙ্গে
ভেঙ্গে যায় আপন ছায়াছবি;
তখনো অঙ্গে আলোক রশ্মির তেজ্বক্রিয়া, ফিন ফিনে
বাতাসে উড়ে যায় আবেগের দুর্মর ঘোড়া
ছায়ারা এর কিছুই জানে না; নির্জীব জল তরঙ্গে
 ভেসে আসে উন্মত্ত শামুকের ফেনিল  সঙ্গম!
অনতি দূরে বৃক্ষের ছায়ার লুটিয়ে পড়া জীবন
যেখানে আপন ছায়ার কোন অস্তিত্ব নাই ।
বিপন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, উসকো খুসকো চুল, অশ্রুর ধারা
ছায়ার গর্ভে সমাধিত  সব!
দ্বিতীয় কোন দর্পণ নাই যেখানে দেখব নিজের স্বরূপ।


দা উ দু ল   ই স লা ম।

বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৬

সময় গেলে সাধন হবেনা......


সময় গেলে সাধন হবেনা......
-----------------------------
দেখতে দেখতে কেটে গেছে বেলা।
বেলা কেটে যায়
এই ত সে দিনের কথা -
মায়ের হাতে গোসল,মায়ের হাতেই খাবার।
সেই হাতেই আদর শাসন আবার সেই হাতেই পথ প্রদর্শন।
পান থেকে চুন খসলেই তুলকালাম কাণ্ড বেঁধে কত দাবী আবদার
যখন- তখন। মায়ের হাতেই আদর শাসন।
সেই শৈশব এখনো রোদ্র উজ্জ্বল বালুর মতন চোখের বিভা হয়ে আছে,
দেহ বস্ত্রে এখনো লেপটে আছে
টোকা দিলেই উড়বে বালুকাময় শৈশব।

সময় গেলে সাধন হবেনা...... অথচ- জীবন তার প্রয়োজনে বড় হয়,
মানুষ নিজেই বুঝতে পারে না -
তারই শৈশব তারই যৌবন-তাকে তাড়া করতে করতে অদ্ভুত শূণ্যতার দিকে নিয়ে যায় ।
সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে বেড়ে উঠায় যারা সফল হয়েছে আমি  তাদের বিনম্র স্যালুট জানাই,
কারণ ব্যর্থ'রা জানে -
সফল হবার মোক্ষম সময় গুলো কে অবমূল্যায়ন করলে জীবনের উপর কেমন গ্লানি নেমে আসে।
সময় গেলে সাধন হবে না......
সময় ত বসে থাকে না
চলে যায়। সময়ের মৃদু  টোকা সবার জীবনেই বাজে,
আমার মত গাফেলেরা তা শুনতে ব্যর্থ অথবা শুনেও তার যথাযথ মূল্যায়ন করেনা।

প্রতি দিন ভাবি আজ ভাল কিছু করব।
ভাল কিছু করার সাধ নিয়ে প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গে... জেগে উঠি...পা বাড়াই
কিন্তু সারা দিনের পর যখন ধূমায়িত চায়ের কাপে একাকী সান্ধ্য ,
বাহিরে আকাশে জোছনা স্নিগ্ধ কুয়াশার ঝাঁক, 
চেম্বারের কাঁচের জানালাটা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকি, মনে অনুভব করি অচিন সুদূরের ডাক।
কোথাও কিছু ঘটছে ... আমি জানি না।
শরীরের এক এক টা অঙ্গে একেক ভাষা , একেক ভাষার একেক আবেদন;
মনের গহীনে ধূম্রজালের মত তাল গোল পাকায় অজানা এক আশংকা!
ইথারের ভাষা আমি বুঝি
এখন আর কোন কিছু বুঝতে অক্ষম নই।
উভয় অক্ষের ঝাপসা চাহনি আর বোধের অনুতাপে ভিজে উঠা কার্নিশ
আমাকে প্রিয়জন দের মুখোমুখি করে দেয়
আমি পরাজিত , জন্মান্ধ কবির মত মনের অতলে লুকাতে চেষ্টা করি।
তা কি সম্ভব?
জন্মের দায়
জন্মানোর দায়
স্বপ্নের দায়... কট্টর পাওনাদারের মত রক্ত চক্ষু তাক করে থাকে।
পালাবার পথ নাই; আর অনুধাবন করি - "সময় গেলে সাধন হবেনা"......

জীবনের কাছে আমি কখনোই দূষ্পাপ্য কিছু চাইনি, সুযোগ ছিল
আর দশ জন মানুষের মতন প্রলুব্ধতার মাঝে মত্ত হয়ে অট্টালিকা সমান প্রতিপত্তি অর্জন করার।
অসংখ্য প থ চেনা-জানা , অসংখ্য  সুযোগ  অসংখ্য  বার উপেক্ষা করে আমি আমার মতন
আপন সত্ত্বায় বিলীন হয়েছি কেবল......
নিজের মধ্যে  নিজেকে খুঁজেছি
রাতের পর রাত , দিনের পর দিন বছরের পর বছর আত্মিক ধ্যানে আত্ম সাধনে নিজের সঙ্গে নিজে
লড়েছি, মনের সেই জায়গায় যাওয়াটাই আমার মতে বেশি প্রয়োজন।
আমি জানি যে আমি মাঠে ঘাটে যুদ্ধ করতে পারব না।
এ পথটা সমাধানের পথ নয় , শান্তির নয়, মহা মানবের নয়, প্রেমিকের নয়;
কাজেই আমি তার মধ্যে যাব না।
ঈর্ষা বা ঘৃণা ও মারামারি হানাহানি করতে পারব না দেখতে পারব  না।
তার জন্যই আমার সংগ্রাম। এই শান্তির কথা বলাটাও একটা সংগ্রাম মনে করেছি চিরকাল।
তবুও বুঝি এ সময় সঠিক সময় নয়। সঠিক সময় ফেরিয়ে গেছে অবজ্ঞার বেড়াজালে,
ফেরিয়ে গেছে ... ভেসে গেছে দুর্মর স্রোতে...


মানুষ তো বটেই!
পৃথিবীর প্রতিটি জিব জন্তু, কীট পতঙ্গের ও আত্মা আছে,
প্রেম আছে, ভালোবাসা আছে, স্বপ্ন আর আদর্শ আছে;
প্রতিটি ধূলিকণার ভেতরেও আছে আত্মা-
তাই পাথর হয়ত বা কেবল পাথরই কিন্তু এখানে সে মানুষের প্রতিভূ।
আমি দেখেছি  সেই বস্তুটির ওপরে যখন আলো এসে পড়েছে
তখন মনে হয়েছ সেই পাথর ও  উত্তরণের দিকে যাত্রার  চেষ্টা করেছে,
আমি সেই পাথর থেকে -
শিখেছি নিজের অন্তর কে কি করে ফুলের বাগিচা করতে হয়,
কি করে  চোখের জলে ক্ষান্ত করতে হয় তৃষ্ণার্ত হৃদয়।

এই কথা সত্যি যে-
মাঝে মধ্যে বা বেশীর ভাগ সময় নিঃসহায় নিঃসম্বল একজন মানুষ মনে হয়।
তখন চোখের সামনে নিজের কবিতা আর আদর্শরা বন্ধুর মত উপস্থিত হয়।
যে মানুষ টি কে জীবনের সব চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভেবেছি, ভালবেসেছি, শ্রদ্ধা করেছি ;
আমি দেখেছি সেই মানুষ টা বাস্তব অর্থে মোহ মত্ত অহংকার লুব্ধ এক জন মানুষ!
তার পরও যাকে আমি ঘৃণা করতে অক্ষম, ভুলে যেতে অক্ষম!

আমার মন ছুটে যেতে চায়,
কাঁদতে কাঁদতে বৃষ্টিতে ভিজে সারারাত আপাদ মস্তক মাতাল হতে চায়। 
চার দেয়ালে সাজানো আসবাব আর রন্ধন শৈলীর ভুরি ভোজন কে যদি সংসার বলা হয়-
 তবে আমি সেই সংসারে বেমানান জড়পদার্থ কেবল।


অদ্ভুত ভাবে মনের ভেতর একটা প্রশান্তি বিচরণ করছে।
আবার বুকের কোনে অবিরাম  একটি যন্ত্রণা দায়ক শীষ উঠেই চলেছে;
মনে হচ্ছে কেঁদে ফেলবো, কিন্তু জানি কাঁদব ন।।
কান্নার জন্য যেই নিকষতা দরকার সে টা আর অবশিষ্ট নাই ।
ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে জীবনটা কত সুন্দর করে গড়ে দেয়, ক্ষত গড়ে দেয়, স্মৃতি গড়ে দেয় ;
কতকিছু অজানা রয়ে যায় আবার কত কিছু জানা হয় ,
......এভাবেই তো জীবন নিজেকে বইয়ে নিয়ে যায় মহা-জীবনের পথে ।
আপন জন কে পর -
আর পর কে আপন করে চিনতে চিনতে মনে মনে ভাবি জীবন কত্তো বিচিত্র!
বিচিত্রতা ঘিরে আছে চার পাশ।

আমার পৃথিবীর সবচেয়ে আপন
 সবচেয়ে কাছের বন্ধু হচ্ছে আমার আপন চোখের জল।
এক মাত্র সে-ই বুঝতে পারে-
মনের কখন তৃষ্ণায় তাঁকে ঝরতে হবে!

আমার আছে জল.................................................
তোমায় তার ভাগ নিতে নয়, তোমায় ডাকছি স্মৃতির কুহকে ভেসে আসা
দীর্ঘশ্বাস থামাতে,
আসবে?
আসবে আমার বিজন পথের নিশীথের সাথী হতে?
মোহন জোছনার সাথে তোমাকে ভাসিয়ে নেব যাবো আমার ফেলে আসা কবিতার খাতায়
যেখানে শব্দরাই এক মাত্র সান্ত্বনা......।।

দা উ দু ল  ই স লা ম ।
১/৯/১৬

রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৬

তুমি এমনিই সুন্দর

তুমি এমনিই সুন্দর
------------------
তুমি এমনিই সুন্দর
তোমাকে পেয়ে সমুদ্র ভুলে গেলো ঢেউর নাচন
জোছনা অবগাহনের মেঘ মণ্ডল ভুলে গেলো পূর্ণিমা মন্থন।
তরঙ্গের পীঠে তরঙ্গ শূন্যতা
পূর্ণিমার বুকে ভয়ানক খর স্রোতা...
বিচলিত গাঙচিলেরা দিনমান এক করে ডেকে গেলো
মৎস্যকুলের সমস্ত মৎস্য, সামুদ্রিক প্রবাল, শামুক -ঝিনুক
সাতরে সাতরে একাকার সব! তবু ভাঙেনি সমুদ্রের বিমুগ্ধ স্থবিরতা!
......তারপর দেখতে দেখতেই সৃষ্ট অনিবার্য নিম্নচাপ! উন্মত্ততা
বেফাঁস তর্জন গর্জন!
তুমি এমনিই সুন্দর
তোমায় দেখতে দেখতে পুড়ে গেলো গোলাপ বাগিচা, প্রাচীন নগর
পুড়ে গেলো শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চিত্র পট
তুমি এমনিই অপরূপা, একবার তাকাতেই এঁটে গেলো চোখ
শিল্পীর নয়নে ধরা দেয়নি আর,অন্য কোন চিত্রপট দ্বিতীয় বার!

এই আমি সেই তোমাকেই ভালবাসলাম
তোমার জন্যই গোলাপ হাতে ছুটে এলাম আদিগন্ত পথ।

দা উ দু ল  ই স লা ম।
২৮/৮/১৬