শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৬

প্রিয় অরুণ সেন

   প্রিয় অরুণ সেন
   

চৈত্রের রোদ শাসানো সকাল কে দিয়ে গেলেন শেষ আলিঙ্গন
রক্ত রঙ্গন চোখে অনন্ত নিদ্রা জড়িয়ে চির তরে ঘুমিয়ে গেলেন
প্রিয় কবি "অরুণ সেন"
ঋতপত্রের রবীন্দ্র সংখ্যার প্রচ্ছদের মত -
সহস্র আবেদন জ্বল জ্বল করছে কবির নিষ্প্রভ অঙ্গ ,
ঠিক যেন নতুন রূপে রচিত হয়েছে 'শঙ্কায় নিনাদে শঙ্খ'!

সত্যি কি চলে গেলেন ? নাকি-
'রুদ্র গেছে রোদের বাড়ী'; যেখানে অরুণ সেন
জীবন আর কবিতার আড়াআড়ি স্বপ্ন আঁকেন!


দাউদুল ইসলাম।
২৫শে মার্চ ২০১৬ 

অরুণ সেন আমার গুরুঃ
-------------------------------------
 ‘ঋতপত্র’সম্পাদক কবি অরুণ সেন আর নেই। শনিবার সকাল নয়টায় তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

আজ খুব করে মনে পড়ছে ১৯৯৪ সালের বৃষ্টি ঝরা একটি দিনের কথা, চট্টগ্রাম জুবলী রোড়ে কবির অফিস কাম
পটো কপি মেশিনের কারবার চালাতেন, ঋতপত্রের ভক্ত ছিলাম তখন খুব;  আমি গিয়েছিলাম তখনকার সময়ে আমার ভেতরকার কাব্য উন্মাদনা নিয়ে,
সে দিন ছিলো ২য় বারের মত ওখানে যাওয়া। প্রথম বার গিয়েছিলাম তারো সপ্তা-খানেক আগে, সে দিন পরিচয় আলাপের পর কবির হাতে নিজের ক'খানা ডায়েরী তুলে দিয়েছিলাম, কবিতা বলে যা লিখেছি তা আদৌ কবিতা কিনা পরখ করে দেখার জন্য, তো-
২য় বার যেদিন গেলাম সেদিন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে কবিকে দাদা ডাকছি , খোশ গল্প করছি। এক ফাঁকে কবিতার কথা জানতে চাইলাম, দাদা যা বললও তাতে বুঝলাম উনি বেশ মনোযোগ সহকারে আমার ডায়েরী গুলো পড়েছেন।
তারপর সেই বৃষ্টি মাথায় আমায় নিয়ে ছুটলেন, জলসা সিনেমার পাশে রিক্সা থামাতে বললেন,  কারেন্ট বুক ল্যান্ডের দাদাদের সঙ্গে আমার পূর্ব সখ্যতা ছিলো, কবির সাথে আমাকে দেখে কবির উদ্দেশ্যে ওনারা বলেছিল, আরে!
 একে (আমাকে) কোত্থেকে আনলেন?
দাদা হাসতে হাসতে জবাব দিলো, জাত ভাই ।

সে দিন দাদা আমার হাতে ছন্দের বারান্দা, কবিতার ক্লাস, বাংলা কি লিখি কেন লিখি বই গুলো তুলে দিলেন। বললেন
মনোযোগ দিয়ে আগে এসব পড়, লিখার অনেক সময় পাবে।
তারপর বুক ল্যান্ডের চা সিঙ্গারা খেয়ে বিদায় নিলাম।
 সে দিন থেকে অরুণ সেন আমার কবিতার গুরু।
কারণ যদি সেই তিনটা বই আমাকে না ধরিয়ে দিতেন তাহলে আসলেই কখনো কবিতার 'ক' বুঝতাম না।

এর পর শহরে গেলে দাদার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করতাম।
হেমসেন লেনের বাসায় নেবার জন্য এক দিন খুব জোর করলেন, কি  কারণে জানি যাইনি।

তারপর  নিজের ব্যস্ততা আর
জীবন সংগ্রামের এক পর্যায়ে ছিটকে পড়লাম। কিন্তু  কবি অরুণ সেন কে আমি আজীবন গুরু মেনে এসেছি।
আজ তাঁর মহা প্রয়াণে আমি আমার হৃদয় নিংড়ানো প্রার্থনা করি-
স্রষ্টা যেন কবিকে শান্তিতে রাখেন।
আর কবি যেন আজীবন বেঁচে থাকেন আমাদের অন্তরে।

দাউদুল ইসলাম।
২৬মার্চ ২০১৬

মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০১৬

অতল ১


ক।

অতল ছুঁয়েছে জল।
বাঁধ ভেঙ্গেছে পূর্ণিমা চাঁদ
ভেসে গেছে গুপ্ত চর,
কুসুমিত মখমল।

খ।

এক বছর পর বিয়ে।
ঘর , বর ঠিক হয়নি যদিও-
এত আগাম নেমন্তন্ন পেয়ে
না বলা  সব কথা
বুঝে গেছি আমিও।

গ।

অহম ভোগাচ্ছে তোমায়
মন পোড়াচ্ছে মন।
  

দাউদুল ইসলাম।
৭ই মার্চ '১৬

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০১৬

পলাশ সম্ভোগ

পলাশ সম্ভোগ
----------------
রূপে তোর মহামায়া 
নেশা ভরা ঘোর চোখে বাল্মীকি রোদ জ্বলে
মাতাল করা গন্ধে বিভোর আমি-
নিজেকে হারাই তোর উথাল পাতাল চুলে।
তাপে উত্তাপে হই উদগ্রীব বিরহী বিলাপে
বুকে তোর ধ্রুপদী সকাল, আড়ালের হিমে কাঁপে;
স্বপ্ন ফোটা উচ্ছ্বাসে
কমুদীনি সুবাস ভাসে প্রজাপতির বাগে,আগলের ঝাঁপে
বর্ণাঢ্য ফাগুন; লাজ লজ্জা ভুলে, মেতে থাকে পলাশী সম্ভোগে!
দ্বিগুণ মন্থনে উত্থিত আগুন
যদিও বুকে ধরে রেখেছিস বসন্তের একান্ত কোমলতা,
তোর অন্তরে বেঁধেছিস পূজার ঘণ্টা; প্রতিমার চোখে
সীমাহীন পিয়াস জাগে!
আমার চেয়ে বেশী কে আর জানে তা?

দা উ দু ল ই স লা ম ।
৩/৩/১৬

সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬

জীবন তার প্রয়োজনে বড় হয়

জীবন তার প্রয়োজনে বড় হয়
- - - - - - - - - - - - - - - -
এই ত সে দিনের কথা -
মায়ের হাতে গোসল,মায়ের হাতেই খাবার। সেই হাতেই আদর শাসন আবার সেই হাতেই পথ প্রদর্শন।
পান থেকে চুন খসলেই তুলকালাম কাণ্ড বেঁধে কত দাবী আবদার যখন- তখন। মায়ের হাতেই আদর শাসন।
সেই শৈশব এখনো রোদ্র উজ্জ্বল বালুর মতন চোখের বিভা হয়ে আছে, দেহ বস্ত্রে এখনো লেপটে আছে
টোকা দিলেই উড়বে বালুকাময় শৈশব।

জীবন তার প্রয়োজনে বড় হয়,
মানুষ নিজেই বুঝতে পারে না তারই শৈশব তারই যৌবন-তাকে তাড়া করতে করতে অদ্ভুত শূণ্যতার দিকে নিয়ে যায় ।
তবু আমি কোনদিনও হারাতে দিইনি আমার সেই স্মৃতিময় জীবন, সেই তেজদীপ্ত স্পন্দন!


জীবনের কাছে আমি কখনোই দূষ্পাপ্য কিছু চাইনি, সুযোগ ছিল
আর দশ জন মানুষের মতন প্রলুব্ধতার মাঝে মত্ত হয়ে অট্টালিকা সমান প্রতিপত্তি অর্জন করার।
অসংখ্য প থ চেনা-জানা , অসংখ্য সুযোগ অসংখ্য বার উপেক্ষা করে আমি আমার মতন
আপন সত্ত্বায় বিলীন হয়েছি কেবল
নিজের মধ্যে নিজেকে খুঁজেছি
রাতের পর তার , দিনের পর দিন বছরের পর বছর আত্মিক ধ্যানে আত্ম সাধনে নিজের সঙ্গে নিজে
লড়েছি, মনের সেই জায়গায় যাওয়াটাই আমার মতে বেশি প্রয়োজন। আমি জানি যে আমি মাঠে ঘাটে যুদ্ধ করতে পারব না।
এ পথটা সমাধানের পথ নয় , শান্তির নয়, মহা মানবের নয়, প্রেমিকের নয়;
কাজেই আমি তার মধ্যে যাব না। তাই আমি দৈন্যদশা, ঈর্ষা বা ঘৃণা ও মারামারি হানাহানি করতে পারব না দেখতে পারব না।
তার জন্যই আমার সংগ্রাম। এই শান্তির কথা বলাটাও একটা সংগ্রাম মনে করেছি চিরকাল।
আমি আজ মানুষের অনাবিল ভালবাসা পাই, আমার বিপদের দিনে অনেকে বন্ধুর হাতও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।এসব কন দিন পাওয়া হত না, যদি
অন্য সবার মত আমিও নিজের সত্তাকে অবমাননা করতাম,
ভালবাসার সাথে বেঈমানি করতাম , যদি মুনাফেকি করে কাউকে খাট করতাম।।

মানুষ তো বটেই! পৃথিবীর প্রতিটি জিব জন্তু, কীট পতঙ্গের ও আত্মা আছে, প্রেম আছে, ভালোবাসা আছে, স্বপ্ন আর আদর্শ আছে;
প্রতিটি ধূলিকণার ভেতরেও আছে আত্মা, তাই পাথর হয়ত বা কেবল পাথরই কিন্তু এখানে সে মানুষের প্রতিভূ।
আমি দেখেছি সেই বস্তুটির ওপরে যখন আলো এসে পড়েছে তখন মনে হয়েছ সেই পাথর ও উত্তরণের দিকে যাত্রার চেষ্টা করেছে,
আমি সেই পাথর থেকে -
শিখেছি নিজের অন্তর কে কি করে ফুলের বাগিচা করতে হয়, কি করে চোখের জলে ক্ষান্ত করতে হয় তৃষ্ণার্ত হৃদয়।

এই কথা সত্যি যে-
মাঝে মধ্যে বা বেশীর ভাগ সময় নিঃসহায় নিঃসম্বল একজন মানুষ মনে হয়। তখন চোখের সামনে নিজের কবিতা আর আদর্শরা বন্ধুর মত উপস্থিত হয়।
যে মানুষ টি কে জীবনের সব চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভেবেছি, ভালবেসেছি, শ্রদ্ধা করেছি ;
আমি দেখেছি সেই মানুষ টা বাস্তব অর্থে মোহ মত্ত অহংকার লুব্ধ এক জন মানুষ! তার পরও যাকে আমি ঘৃণা করতে অক্ষম, ভুলে যেতে অক্ষম!

আমার মন ছুটে যেতে চায়, কাঁদতে কাঁদতে বৃষ্টিতে ভিজে সারারাত আপাদ মস্তক মাতাল হতে চায়।
চার দেয়ালে সাজানো আসবাব আর রন্ধন শৈলীর ভুরি ভোজন কে যদি সংসার বলা হয়, তবে আমি সেই সংসারে বেমানান জড়পদার্থ কেবল।

প্রতি বছর মাঘের শীতের সন্ধ্যায় আমার জন্মদিন আসে
এবার ও ব্যতিক্রম নয় । ধূমায়িত চায়ের কাপে একাকী সান্ধ্য , বাহিরে আকাশে জোছনা স্নিগ্ধ কুয়াশার ঝাঁক,
চেম্বারের কাঁচের জানালাটা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকি, মনে অনুভব করি অচিন সুদূরের ডাক।
মুঠোফোন আর ল্যাপটপের স্ক্রিনে একটু একটু পর পর বীফ শব্দে নোটিফিকেশন ভেসে উঠছে, আজব দুনিয়া!
শত একা থেকেও আমরা কেউ একা নই যেন, ইথারের বন্ধুরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে জীবনের কথা, শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, শুভ কামনা করছে হা-হাহাহাহা

অদ্ভুত ভাবে মনের ভেতর একটা প্রশান্তি বিচরণ করছে। আবার বুকের কোনে অবিরাম একটি যন্ত্রণা দায়ক শীষ উঠেই চলেছে;
মনে হচ্ছে কেঁদে ফেলবো, কিন্তু জানি কাঁদব না
কান্নার জন্য যেই নিকষতা দরকার সে টা আর অবশিষ্ট নাই ।
ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে জীবনটা কত সুন্দর করে গড়ে দেয়, ক্ষত গড়ে দেয়, স্মৃতি গড়ে দেয় ;
কতকিছু অজানা রয়ে যায় আবার কত কিছু জানা হয় এভাবেই তো জীবন নিজেকে বইয়ে নিয়ে যায় মহা-জীবনের পথে ।
আপন জন কে পর , আর পর কে আপন করে চিনতে চিনতে মনে মনে ভাবি জীবন কত্তো বিচিত্র! বিচিত্রতা ঘিরে আছে চার পাশ।

-দা উ দু ল ই ল লা ম।
২৫/১/১৬

মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬

যে কোন সংজ্ঞাই নিরর্থক এখন

  যে কোন সংজ্ঞাই নিরর্থক এখন

-----------------------------------

যে কোন সংজ্ঞাই নিরর্থক এখন
 অস্তিত্ব হীন প্রেমে কেটে যায় রাত  নির্ঘুম নির্মমে।
অজর নয়নে অনর্থক অশ্রুর বিসর্জন, মাঘের হিমে
অবসিত যৌবন; নির্বিশেষে হয়ে গেছে চেতনা লুণ্ঠন!

যদিও তুমি আচ্ছন্ন শীতনিদ্রায় পুরুষালী ওমে
তবু চিত্ত তোমার অশান্ত ঢের, অবিশুদ্ধ কামে!
 অস্বীকার করতে পারো?
যখন তুষারের বুকে লুণ্ঠন হচ্ছিলো আমার গচ্ছিত প্রেম
হিম নয়, আদিম সত্তা তোমাকে কাঁপিয়ে  মারছিলো;
রক্তে ধুঁকছিল আফিমের নেশা, হু হু করে তুষার ঝড়ে
ডুবে যাচ্ছিলো তোমার সুডোল স্তন, বুকের উপত্যকা,নিতম্বের শাখা...
তখন আমার সত্তা জুড়ে কবিতার জোরদার আন্দোলন
মরণ পণ লড়াই করে তোমাকে করেছে  উদ্ধার!!

যতবার প্রত্যাশা করেছো তারো বেশী দিয়েছি বলিদান
ফণীমনসার বিষ ঠাসা বনফুলের জন্য ধ্বংস করেছ গোলাপের বাগান।
কোন দস্যুতায় টলিনি আমি এক রত্তি, সারা জীবন ভর
অবলার লীলা খেলে গেছে চতুর বাজিকর! অন্তরাত্মা রেখেছি সুমহান
যদিও তুমি অবলীলায়  হত্যা করেছো আমার পবিত্র প্রাণ।

সচক্ষে দেখেছ সব! স্ব আত্মায় করেছ অনুভব!
এত কিছুর পরও আজো ছুটছো পথচ্যুত হরিণের মত
আমাকে বধির করে লোকসমক্ষে অন্ধের মতন করছো পরকীয় চুম্বন!
বেশ করেছ-
পৃথিবী দেখুক সভ্যতার আগুনে স্তম্ভিত বাস্তবতা
মিথ্যার প্রয়োজনে নত হয়েছে আজ সত্যের উঁচু মাথা।

দাউদুল ইসলাম।
১৯/১/১৬

শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৬

অভিমানের আত্মা নীল

অভিমানের আত্মা নীল
দুঃখী শব্দের মিছিল, আর
অশ্লীল অন্ধকার।
দীঘল রাত
আমার কলম ছেড়ে-
কবিতার অলংকার
ঠায় নিয়েছে বাইজির চরণে;
উলঙ্গ নৃত্যে উন্মত্ত অহংকার
শরীর বৃত্তের নগ্ন আয়োজনে।

তুমি কি সে-ই?
আমার প্রেমের দেবী, প্রাণের প্রতিমা
হৃদয়ের চৌহদ্দি জুড়ে
কবিতার উপমায় সাজানো প্রতিচ্ছবি!
তুমি কি সে-ই?
যেই রমণীর আঁচল ভরে
পূজার নৈবদ্য অর্পণ করে,
ধন্য হয়েছি সহস্র বার।
উজাড় বুকে
যে আমাকে দেখিয়েছিল জোছনা উদ্যান,
না; তুমি নও সে-ই
যার চোখে পেয়েছিলাম অমর্ত্যের সন্ধান!

আমি জেনেছি
কষ্টের ধৃষ্টতা থেকে-
এই তুমি সে-ই হতেই পারো না!
হেমনীলের জৈবিক উৎকর্ষ ছেড়ে
যেই আত্মা আমাকে নিয়ে
উড়ে গিয়েছিল অবিশ্রান্তির পবিত্র অন্তরীক্ষে……।।

দাউদুল ইসলাম।
১৬/১/১৬


বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৬

জীবনের আয়োজন

জীবনের আয়োজন


দিনের শেষে ভাবছো বসে
জীবনের আয়োজন
আমিও ভাবছি অবশেষে
তোমাকেই আমার একান্ত প্রয়োজন।

প্রাণের আগলে প্রাণের ধ্বনি
যৌবনের অনলে জীবন পোড়ে
অতল হৃদয় নিংড়ে
নীরবে কাঁদে প্রেমের বাণী।

আঁকছো তুমি আপন মনে
কাঁদছো একা যামিনীর বিজনে
আমিও কাঁদছি, বুকে যন্ত্রণা অগাধ
ধুকে ধুকে মরছি;  তবু- 
তোমার জন্য করছি জীবনের আবাদ।

মনের অগোচরে বুনছো মনের ব্যাধি
জীবনের তরে আমাকে পাও যদি,
আমিও লিখছি মরমী কবিতা-
জন্ম জন্মান্তরের গান
আদরে অনাদরে বেড়ে উঠা তোমার আমার সন্তান।

সাজছো তুমি মনের মতন
ফের মুছে পেলছো -
আড়ালের বিষণ্ণতারা ভেংচি কাটে যখন,
জাগছি আমিও তৃষিত যৌবনে
আপন দহন নিভেছে আপন ক্রন্দনে
স্তব্ধ জীবন শৃঙ্খলিত চরণে।

 বিষের ঘা-এ বিষের দংশন
নির্বাক নয়নে দেখে যাচ্ছি নগ্নতার উত্থান- পতন।

দাউদুল ইসলাম।
১৩/১/১৬