ডাঃ দাউদুল ইসলাম। ছোট বেলা হতে প্রেমে পড়ি কবিতার, কবিতা পড়ি- যেখানে পাই যা পাই প্রিয় কবিদের লিখা কাব্য যত্ননিয়ে পড়ি সংরক্ষন করি। লিখি যখন যা পারি কখনো হয় কখনো হয়না তবু মনের ইথারে একটি কথা বারবার উঁকি দেয় যে এক দিন আমার ভুবন জুড়ে হবে কাব্যময় উচ্ছ্বাস।
বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৬
শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫
তোমাকে চিনেছি আমি
তোমাকে চিনেছি আমি
ভোরের শিশির
নৈশব্দের দীর্ঘশ্বাস তুমি
কান্না নিরবধির
ছুঁয়েছো কবির অন্তর
আতপ্ত হাতে
যৌবনন্ধ দাবীর দুর্মার
অনল নেভাতে,
প্রজ্বলিত চিত্তে বেমালুম
হই মুখোমুখি
সুডোল বুকের উষ্ণতার
দিয়েছো ফাঁকি!
নাকি এমনিই তোমার
স্বভাব? মমতার
হাতছানিতে পোড়াও কাবাব।
সারা রাত
নির্জর শিশির প্রপাত,
আমি চিনেছি তোমাকে-
বুকের ভেতর বেহিসাব আঘাত।
ভোরের শিশির
নৈশব্দের দীর্ঘশ্বাস তুমি
কান্না নিরবধির
ছুঁয়েছো কবির অন্তর
আতপ্ত হাতে
যৌবনন্ধ দাবীর দুর্মার
অনল নেভাতে,
প্রজ্বলিত চিত্তে বেমালুম
হই মুখোমুখি
সুডোল বুকের উষ্ণতার
দিয়েছো ফাঁকি!
নাকি এমনিই তোমার
স্বভাব? মমতার
হাতছানিতে পোড়াও কাবাব।
সারা রাত
নির্জর শিশির প্রপাত,
আমি চিনেছি তোমাকে-
বুকের ভেতর বেহিসাব আঘাত।
দা উ দু ল ই স লা ম।
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৫
জখমের জখম -আমি মৃত্যুঞ্জয়
জখমের জখম -আমি মৃত্যুঞ্জয়
-------------------------------
গড্ডালিকায় প্রবাহিত স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে
আমি বারবার হোঁচট খেয়েছি, দুমড়ে মুচড়ে পড়ে গিয়েছি
আবার দাঁড়িয়েছি উঠে; আবার পা বাড়িয়েছি লড়াইয়ের মাঠে!
পেছন থেকে উড়ে এসেছে অগণিত ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ
রক্ত চক্ষুর আক্রোশ আর দাম্ভিকতার নগ্ন অহংকার; নিশ্চুপ রাতের
অন্ধকারে আততায়ীর গুপ্ত আক্রমণ সহ নানান বাঁধা বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে
এই আমি আজো টিকে আছি সংক্রামক ব্যাধির সম্মুখ যুদ্ধে!
অথচ কেউই আমার শত্রু নয়! অপর নয়!
পার্থক্য শুধু সবার মত একিই ক্ষুরে মুণ্ড করিনি আপন মাথা
দণ্ডায়মান ভৃত্যের মত, ( ভৃত্যদের ও থাকে আত্মসম্মান)
পোষা কুকুরের মতো লিকলিকে জিব্বহা নেতিয়ে করতে যাইনা
সমাজপতিদের তোষামোদ!
হ্যাঁ-তে হ্যাঁ
আর না তে না মিলিয়ে নির্লজ্জ চাটুকারিতা কে যদি ভালোবাসা বলা হয়
তবে ভালবাসা নামক শব্দটির বিলুপ্ত হোক চিরতরে;
কলুষিত মরু প্রান্তরের মত ধু ধু করুক পৃথিবীর জনপদ গুলো
সুনসান পোড়া বাড়ীর মত জনশূন্য থাকুক অন্তর আঙ্গিনা!
আমার অন্তরের বিনয়াবনতা আর চেতনায় বিদ্রোহ
সঙ্গে কেহ থাকুক না থাকুক,
জোয়ারের বিপরীতে আমি অ-কুর্ণিশ ! করিনাকো সমীহ,
আমি উল্লাস!
আমি উদোম!
কুলাঙ্গারের সর্বনাশ আমি; প্রয়োজনে হতে পারি নির্মম!
জখমের জখম আমি -মৃত্যুঞ্জয়
প্রেমের বলিদানে নির্ভীক আমি;নিঃশেষের বিজয়।
দা উ দু ল ই স লা ম।
০৭/১১/১৫
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫
তোমাকে অভিনন্দন...শুভাশিস
তোমাকে অভিনন্দন...শুভাশিস
-------------------------- -------------------------- -
নির্বাক্যে মেনে নিলাম তোমার নিষ্ঠুরতম আচরণ
নির্বিবাদে শুনে গেলাম অবর্ণনীয় শব্দ- বচন।
অবলীলায় বুকপেতে দিলাম তোমার দুর্বিষহ চাবুকের নিচে
আমিতো তোমারই ছিলাম, তোমারই আছি চিরন্তন বশে।
তোমাকে অভিনন্দন...শুভাশিস
নতুন চকে পুরনো খেলায় তোমারই হোক জয়, বরাবরের মতন।
আমি অকুতোভয় সেনার মত মাইন বাধা বুকে ঝাপ দিলাম
তোমার শত্রুর ট্যাঙ্কের তলে! ফলে-
পুনরায় সে তোমার মিত্র হবে এটাই স্বাভাবিক!
সে দিনের সেই বিচলিত তুমি ছুটছিলে দিগ্বিদিক
হৃদয়ের পাটাতন খুলে তোমাকে আগলে রাখা আমার ভাগ্য কর্ম
আমিতো তোমার জন্যই ; নিজেকে উৎসর্গ করাই আমার ধর্ম!
তোমারই একান্ত আমি। অস্তিত্বর সহজাত ধারায় তুমিই কেবল!
রক্ত ঝরা আত্মদানে তোমারই সুখ চেয়েছি সাক্ষী আছে বিনিদ্র রাত্রিরা,
সাক্ষী আছে নিন্মচাপ সৃষ্ট ফুসে উঠা সমুদ্র, বিচলিত গাংচিল, বৃষ্টির ভারী বর্ষণ
হৃদয়ের কোটরে বহুকাল আঁকড়ে রাখা প্রাণ প্রিতম প্রতিমার বিসর্জন!
হে উর্বশী, হে জ্যোৎস্নার উষ্ণ আলিঙ্গন, হে একাগ্রচিত্ত আমার
নির্বাক্যে মেনে নিলাম তোমার দ্বিচরণ নগ্নতার অকথ্য ভাষা!
পূজার সমস্ত আয়োজন, ধুপ কাঠি, গোলাপ- চন্দন
নির্বিঘ্নে ফেলে যাওয়া সহস্র রাত্তির নৈবদ্যের ক্রন্দন, সত্তার পবিত্র বন্ধন!
তুমি জানতে তোমার জন্যই বরণ করলাম বিষাক্ত তীর ,ক্রুশবিদ্ধ যীশুর মতন!
দা উ দু ল ই স লা ম।
২৯ অক্টোবর ১৫
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫
ক্ষুধা না লজ্জা
ক্ষুধা না লজ্জা
বিকেলের বিষণ্ণ
চোখ থেকে ঝরে পড়ে লাল অশ্রু
মাটি শ্রমিকের কোদালে এঁটে
থাকা মাটি, চিটচিটে
বগলে
ছেঁড়া ব্লাউজে প্রতীয়মান সংগ্রামী ইতিহাস!
যুদ্ধ কোন খেলা নয়,স্নান
ঘাটে ভেসে যাওয়া বুকের পঙ্কজল
অথবা গুমরে উঠা অন্ত্রের ক্ষুধা... হাহাকার
ক্ষুধা বোঝেনা
কবিতা
ক্ষুধা বোঝে গ্রাস,
ভোগ...... ক্ষুধা বোঝে সঙ্গম
যুবতীর রক্তিম ওষ্ঠে গোধূলির হাসি
আকাশের বুক চিড়ে উঁকি দেয় মেঘের স্তন!
কোথাও কেউ বুঝতে চায়না ক্ষুধা না লজ্জায়
কিসের ভারে নুয়ে যায় -নদী সংলগ্ন কাশ বন!!
দা উ দু ল ই স লা ম
০৭/১০/১৫
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
যুগান্তরের শৃঙ্খল
যুগান্তরের শৃঙ্খল
-----------------------------
তোমাকেই বলছি, ও- হে সভ্যতা
শুনে যাও , এই অধমের দু খানি কথা-
শুনো হে অত্যাধুনিক, হে ডিজিটাল
যে পদধ্বনিতে তুমি জাগিয়েছ রব অন্তরায় তার নির্মমতা ভয়াল!
বীণার তার ছিন্ন করে ভেঙ্গেছ শিল্পের শৃঙ্খল
জানো কি তুমি? মর্মের আঘাতে মর্মের জখম, মানবাত্মা হয়েছে দখল।
তোমাকেই বলছি হে মহাকাল
অধরে তোমার অন্ধকারর তমাল, অন্তরে নগ্নতা
বিশুদ্ধ মিথ্যা আর বুলি আওড়াতে প্রমাণ করেছ নিপুণ দক্ষতা!
কি ...অনবদ্য চারু কারু
প্রশান্ত জলাশয় শুকিয়ে বুকের চাতালে জাগিয়েছ মরু;
যেখানে কালের সুর জাগানিয়া ঝর্ণা বয় নিরবধি
তুমি সভ্য হতেই বেদনা বিদূর কান্নায় ঘুমরে উঠে জোছনা তিথি।
দেখো...... উদ্ভাসিত সোনালী সকাল
দেখো পাখি, ফুল, নদী , আর মানুষের বিশাল হৃদয়!
তোমাকেই বলছি হে- যুগান্তরের শৃঙ্খল
দেখো আমার বুকে বয়ে যাওয়া ঝর্ণা নিরবধি
দেখো শরতের মেঘ, কাশের স্নিগ্ধ চুম্বন
দেখো কেমন করে গাহি গান
আগুন গহ্বরে বসে হাসি চিরন্তন অম্লান!
বলতে পারো-
কেন আজ ধন্য আমি?
কারণ বিষের পেয়ালায় বিশ্বাসের চরণ চুম্বী;
মরণ যেখানে ভীত, সন্ত্রস্ত! বিদগ্ধ আত্মা স্পর্শে
আমি সেখানে নিঃসংকোচে গিয়েছি ভেসে
কষ্টের গ্লানি কপোলে মেখে চিনেছি দুঃখের বিভাবরী
দেখো...
হাসতে হাসতে কেমন করে বরন করি প্রতি মুহূর্তের মরণ শর্ব্বরী।
দাউদুল ইসলাম
২৯/৯/১৫
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
আমি ছড়াতে পারি চৈতন্যের আলো নিত্য নতুন উদ্ভাস
আমি ছড়াতে পারি চৈতন্যের আলো নিত্য নতুন উদ্ভাস
-------------------------------------
তোমরা যেই জীবনের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যতি ব্যস্ত, যেই নিশ্চয়তা কিংবা রাখ ঢাকের পেছনে
সমগ্র শক্তি অপচয় করছো দিনের পর দিন-
আমি সেই সীমানা অতিক্রম করে মর্তের বন্ধন ছিন্ন করে অমৃতের ছোঁয়া পেতে আকণ্ঠ হয়েছিলাম, হয়ে আছি।
আমার কাছে আমার স্বপ্ন , আমার কবিতা , আমার নিজস্ব পৃথিবী এক মৃত্যুঞ্জয়ী অর্জন।
আমি বরাবরই আরুঢ় হয়ে মনের উন্মুক্ত পাখা মেলে অগম্যলোকের অভিসারী।
যেই অভিসারে আমি নিত্যদিন তলিয়ে যেতে দিইনি নিজেকে, গভীর থেকে গভীরে; আমার কাছে আমার ছন্দোবদ্ধ শব্দরাজীরাই এক মাত্র মূল্যবান... মহামূল্যবান সম্পদ। আমিই এর এক মাত্র অধিকারী
যার সাথে প্রতিনিয়ত আমি আমার প্রাণের সঙ্গম করে যাই।
আমার শব্দরাজীর আবেদন কে যে কেউই উপেক্ষা করতে পারে; উপেক্ষা , অবহেলা কিংবা নগণ্য ভাবার অধিকার যে কারোই রয়েছে। একিই ভাবে আমার শব্দের মর্মভেদে কবিতার অন্দর মহলে প্রবেশ করে দিতে পারে
নৈসর্গিক আলিঙ্গন। আপন করে নিতে পারে যার যেমন ইচ্ছা...।
গ্রহণ বা নিগ্রহনের এই দু পক্ষকে আমি স্যালুট করি। সম্মান করি, তোয়াক্কা করি।
আমি সব সময় চেষ্টা করেছি নিজের দুঃখবেদনা কিংবা আনন্দ কে সীমা বেষ্টন থেকে মুক্ত করতে, বাস্তবতার নিবিড় স্পর্শ কে অনুভব করে যত প্রকার কষ্ট আছে , দুঃখ আছে ব্যর্থতা আছে অথবা সুখ- সাফল্য সব কিছুর
মর্মস্পর্শ করে তীব্র আন্দোলিত আত্মা কে , বোধ কে বিশ্বজনীন বোধে রূপ দিতে।
যাতে মানুষ চিনতে পারে মানুষ কে।
যাতে দুঃখ বুঝতে পারে সুখের মর্ম, সুখ বুঝতে পারে দুঃখের মর্যাদা।
জীবনের প্রতিটি বাঁকে এক একটা অনুরণন থাকে। বিশ্বাস , ভালোবাসা , স্বপ্ন দিয়ে আমরা সেই অনুরণনের ভাষাকে অনুভব করতে পারি। কিন্তু অহমিকা কিংবা দাম্ভিকতার ভয়াল প্রভাবে আমরা হারিয়ে ফেলি জীবনের বোধ শক্তি। হারিয়ে ফেলি মনুষ্যত্বের চিরন্তন রূপ।
অথচ আমি সব সময় চেষ্টা করেছি নিজের চারপাশের ঘটনাগুলোকে আন্তরিক ভাবে অনুভব করে বিশ্বাস আর ভালবাসা দিয়ে , মমতা দিয়ে আপন করে অনির্বচনীয় প্রেমের জগতে নিয়ে যেতে। যাতে মানুষ আপন পর চিনতে পারে। আলো আঁধার বুঝতে পারে।
এক জন অনন্য মানুষ কোন দিন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকতে পারে না।
পৃথিবীতে যুগে যুগে কালে কালে মহৎ আত্মার আগমন হয়েছে। এসব মহৎ আত্মার মানুষ গুলোর সংখ্যা হাতে গোনা যদিও-
কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, আজকের এই সভ্যতা এই আধুনিকতা, এই শিল্প সাহিত্য কিংবা বিত্ত ভৈবব...
যা কিছু সাধারণ মানুষ ভোগ করছে তার সব কিছুই এই হাতে গোনা মানুষদের কল্যাণে।
আমরা সাধারণ চোখে যা দেখিনা, বুঝিনা
তারা তাদের অনন্য চোখে তা দেখে - বুঝে আর ভাবতে পারছেন বলেই আমরা আজ অনেক অসম্ভব কে সম্ভব করেছি।
একবার ভাবুন পৃথিবীতে রবীন্দ্রনাথ , নজরুল, সেক্সপিয়ার, পাবালো নেরুদা , জালাল উদ্দিন রুমী, শেখ সাদী , ফিওদোর দস্তয়েভ্স্কির জন্ম না হলে কি হতো ? কোন পর্যায়ে যেতো আজকের পৃথিবী?
আমার এক বন্ধু আমাকে একবার বলেছিলো" কবিতা ভাত পায়না"
আমি সে দিন তাকে জবাব দিয়েছিলাম "কবি'রা ভাত চিনলে মানুষ সভ্যতা ভুলে যাবে।"
নিজের সুখ ,স্বপ্ন নিজের সাধ আহ্লাদ সব কিছু বিসর্জন দিয়ে
একজন কবি , সাহিত্যিক অথবা একজন শিল্পী আমাদের প্রতিদিন নতুন করে ভাবতে শেখায়। বাঁচতে শেখায়
নতুন ছন্দ নতুন স্বপ্ন নতুন জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় ।
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন " অলৌকিক আনন্দের ভার, বিধাতা যাহারে দেন, তার বক্ষে বেদনা অপার; তার নিত্য জাগরণ"।
কথাটি আমাকে বার বার সহায় দিয়েছে , আশ্রয় দিয়েছে, সাহস উৎসাহ যুগিয়েছে।
তাই যখনি অবহেলা দেখি, ঘৃণা দেখি
অহম অগ্নি চোখের দম্ভ দেখি - তখনি নিজেকে প্রবোধ দিই কবি গুরুর এই বানী দিয়ে। আর মনে মনে বলি
'তোমরা ধ্রুপদী হও
উর্বশী হও ভেনাস হও,তিলোত্তমায় বাঁচো
আমি আছি চির নিত্য-জাগ্রত...। হয়তো কুৎসিত বীভৎস মুখ আমার
হয়তো ভাঙ্গাচোরা গৃহে বাস
তবু আমি ছড়াতে পারি চৈতন্যের আলো নিত্য নতুন উদ্ভাস।''
দাউদুল ইসলাম
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)





