শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০১৫

শাশ্বত সুন্দরের মৃত্যু


কত কিছুই জানা হয় না, জানা যায় না। কেন-
প্রতিদিনের সেই একি জানালায় ঝুলে থাকে ভাঁজ করা চিবুক।
কেন, এক জন যুবক
অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে তুলে আনে নিত্যনতুন অসুখ!
কেন  বিদীর্ণ ভাস্কর্যের চেয়ে ঢের ম্লান হয় মানুষের মুখ ।
কতটা নৃশংসতায় ক্ষান্ত হয় নপুংসক হায়েনা
জানা যায় না- তুষের অভ্যন্তরে কতটা উত্তাপ
প্রগতির শৃঙ্খল ভেঙ্গে সৃষ্টি হয় দীর্ঘশ্বাসের ঘূর্ণি চাপ।

জানো কি?
কতটা  দহন হলে একটা জীবন আকুতি করে মৃত্যু কামনায়!

দা উ দু ল   ই স লা ম।
৭/৮/১৫

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫

রাত্রি নাই

রাত্রি নাই

অনন্ত কাল ধরে আমি সন্ধান করছি একটি রাত্রির।
 সভ্যতার অভিজাত বাসিন্দারা যার ধার ধারে না
দিন বিগত সন্ধ্যার আগমনে যেখানে নিমগ্ন ব্যস্ততা নামে
জমকালো জলসায় , মিথ্যার কটকটে রঙ ঢং, হাস পরিহাস
সেখানে রাত্রি নামার সুযোগ কোথায়?

রাত্রি  চায় , তার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।
মানুষের আত্মা, চিন্তার নিমজ্জিত ভাবার্থ, আর সমগ্র সাধনা
রাত্রি সহ্য করেনা কোন সপত্নী;
যাবত কালের সমগ্র দাবী উপেক্ষা করে
জীবনের সুপ্ত- দীপ্ত সমস্ত কামনা বাসনায় একাকার হতে
বহুকাল ধরে বিশ্বাসের গভীরতায় জপ করে চলেছি সেই রাত্রির তপস্যায়...।।

জীবনের নিবিড় কোঠরে কষ্টের অগণিত জখম,
প্রাণের স্পন্দনে দুঃখী শব্দাবলীর অথই হাহাকার;
উত্তপ্ত দিনের প্রখর রোদ্দুরে বরফের মত বিগলিত হতে হতে
কিংবা ঝড়োন্মাদ প্রলয়ের ঘাত প্রতিঘাত বুকে ধারণ করে
প্রতিদিনের অতৃপ্তি, অনিশ্চয়তা আগলে নিই স্বাচ্ছন্দ্যে।

প্রতি বারই মনে হয় জ্যোৎস্নার সোনালী সিম্ফনিতে এই বুঝি এলো সে,
অভিমানী রাত্রি বার বার মুখ ঘুরিয়ে নেয়, নাকি লুকিয়ে যায়?
নিজের অস্তিত্বে লেগে থাকা সম্ভোগ চিহ্ন আড়াল করতে!
জানি না-
এত সব হিসেব নিকেশের প্রশ্ন-আমার কোনদিন জাগেনি
আমি কেবল মন প্রাণ উজাড় করে খুঁজেছি সেই প্রগাঢ় রাত্রি।

নীল স্রোত আর জ্যোৎস্নার ধ্রুপদী নৃত্যের সমস্ত পবিত্রতা খর্ব করে
বেজে উঠে ঠুমরীর গর্জন;
রাত্রি নাই!
মন্থন শেষে ভয়ংকর ঘূর্ণিতে পাক খেতে খেতে নিঃশেষ জীবন যৌবন।

দা উ দু ল  ই স লাম।
৫/৮/১৫

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০১৫

বেশ করেছো


ভালোই করেছো বুকের সীমানায় প্রাচীর গড়ে
তা নাইলে আমার দুর্মর গমনে ছাই হতে পুড়ে!

বিবাগী মন
চিত্ত চঞ্চল আর নির্বাণ দহন,
আমিতো সয়ে গেছি তোমার অনাহুত নির্মম আচরণ!
সয়ে গেছি যখন সাম্রাজ্য আমার ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃচিহ্ন প্রায়,
শাশ্বত শান্তি অপমানিত  তোমার বেধড়ক অহমিকায় যখন;
সয়ে গেছি কান্নার নির্লজ্জ আহাজারি, বজ্জাত উপহাস...।

ভালই করেছো, হতবিহবল বেঈমানি আর অকথ্য কথন
সু-প্রাজ্ঞ , সুদক্ষ চলা কলা
অন্যথা আমার প্রগাঢ় আহ্বানে হয়ে যেতে চির উতলা;
কি করে উপেক্ষা করতে
অস্তিত্বের নিবিড়ে ধ্রুপদী চুম্বন আর অর্গল আলিঙ্গন।

বেশ করেছো
আমাকে নিঃশেষ করতে করতে গড়ে নিয়েছো সীমানার দেয়াল
অন্যথা আমি হয়তো হয়ে যেতাম চূড়ান্ত মাতাল।

দা উ দু ল  ই স লা ম।

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০১৫

খুলে যাবে সব ক'টা জানালা




একদিন মুখোশের ভেতর ঢুকে যাবে আগুনের দৈত্য
একদিন দহনের জ্বালায় ঝলসে যাবে সকল অকথ্য মিথ্যা
একদিন আলোর টানেল খুলবে মুখ
একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে মানবিক সুখ,আমূল সত্য!

একদিন উদাম দেহে নামবে সভ্যতার জনস্রোত
মুখোশের আড়ালে মুখ গুলো খুঁজবে অন্ধকার গুহা
একদিন সূর্যের কিরণে রাঙাবে তেপান্তরের মাঠ
একদিন পাখী ডাকবে
একদিন বৃষ্টি নামবে
ভরা গাঙ্গে জোয়ার বইবে, নায়ের পালে লাগবে হাওয়া।

একদিন সব ঝকঝকে তকতকে পাক পবিত্র হবে
একদিন পট পট করে পতাকা উড়বে
সব ক'টা জানালা খুলে যাবে
একদিন ওরা আসবে মাতৃত্বের আঁচলে নিশ্চিন্তের নিদ্রা যাবে;
একদিন ফুল ফুটবে, চির অম্লান-
বিজয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে যে হাসতে হাসতে উৎসর্গ করবে আপন প্রাণ।

দা উ দু ল ই স লা ম।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫

গোপন অবাধে

গোপন অবাধে
-------------------------

আঁধার রাতের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে
খুলে নিলাম বুকের আগল, কষ্টরা দম পেলুক অবাধে
নিস্তব্ধতা ভেদ করে আড়মোড়া ভাঙ্গুক বিপুলা দীর্ঘশ্বাস!
অন্তর অভ্যন্তরে স্তূপ বাঁধা নির্বেদ গোপন নির্বাণ দহন,
অন্ধকারে তো কষ্টের কোন ভয় থাকে না; যতক্ষণ না
তথা কথিত আলোর সভ্যতা ভেংচি কাটে!!

রাতের চোখ বাঁধা
হাত বাঁধা
অন্ধকার সিম্ফনি আর মৌন ব্যথা
ইচ্ছেমত বিদ্ধ হয় , প্রবিষ্ট হয়- একে অন্যের কোটরে।
দা উ দু ল ই স লা ম।
৩১/৭/১৫

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস: পুনরুদ্ধার

দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস: পুনরুদ্ধার: বিলুপ্ত নগরীর মত,প্রাচীন প্রত্ন তত্ত্বের মত মহা কালের মহা সত্যের মত- এক দিন পুনরুদ্ধার হবে আমাদের সোনালী দিনের প্রেম, আদিম ধুলো মাখা, শ্য...

পুনরুদ্ধার



বিলুপ্ত নগরীর মত,প্রাচীন প্রত্ন তত্ত্বের মত
মহা কালের মহা সত্যের মত-
এক দিন পুনরুদ্ধার হবে আমাদের সোনালী দিনের প্রেম,
আদিম ধুলো মাখা, শ্যাওলা পড়া প্রাসাদের মত
উদ্ধার হবে ভালোবাসার অলি গলি; মধু মত্ত স্মৃতি!
সে দিন কেমন করে রুখবে উদ্যত হৈ চৈ

বিস্ফোরণের পারমানবিক শক্তির মত মুহূর্তেই রটে যাবে
কল্পলোকের কাহিনী!
শত সহস্র বিনিদ্র রজনী, যোজন যোজন চুম্বন আর;
আষ্টেপৃষ্ঠে অংকিত সোহাগ চিত্র, খুনসুটি বেশুমার
একে একে উদ্ঘাটিত হবে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস!
তুমি কি করে রুখবে সেই সময়; সেই অনুসন্ধানীর উচ্ছ্বাস!

 নগরীর অলিতে গলিতে আমাদের আলিঙ্গনের ম ম সুবাস
প্রাসাদের দেয়ালে, ইটের গাঁথুনিতে , মরচে পড়া লণ্ঠনের গায়
খুঁজে পাবে হাজারো অপেক্ষা, নিবড় দীর্ঘশ্বাস
 প্রিয় সেই নামের প্রকম্পিত ধ্বনি; হাসির রিন ঝিন, যৌবনের যৌথ ত্রাস!

পৃথিবীর বুক জুড়ে তৃষ্ণাক্রান্ত হাহাকার
বিলুপ্ত নদীর মৃত চোখে ক্রন্দনের উত্তপ্ত জল
ভেঙ্গে চুরমার হওয়া স্বপ্নের স্তূপ, শপথের নির্বাক সাক্ষী
এই সব কিছু ডিঙ্গিয়ে অন্তরীক্ষ কাঁপিয়ে সেদিন বৃষ্টি নামবে;
নব সৃষ্টির উল্লাসে রচিত হবে এক অনবদ্য কবিতা, উত্তাল
পৃথিবীর কবিরা যার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এতকাল।


দা উ দু ল  ই স লা ম
২৮/৭/১৫