ডাঃ দাউদুল ইসলাম। ছোট বেলা হতে প্রেমে পড়ি কবিতার, কবিতা পড়ি- যেখানে পাই যা পাই প্রিয় কবিদের লিখা কাব্য যত্ননিয়ে পড়ি সংরক্ষন করি। লিখি যখন যা পারি কখনো হয় কখনো হয়না তবু মনের ইথারে একটি কথা বারবার উঁকি দেয় যে এক দিন আমার ভুবন জুড়ে হবে কাব্যময় উচ্ছ্বাস।
বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭
গিটের মহিমা...
----------------------------- উৎসর্গঃ কবি আরণ্যক টিটো কে-
ভাবতে গেলে
প্রকট হয়ে উঠে ভাব অভাব...অশান্ত শূন্য! বুদবুদ!!
যেখানে শূন্যতা... সেখানেই হাওয়ার দুরন্তপনা!
নির্বোধ! বেদখল!!!
কি রঙে
কি ঢঙে
কোন তালে স্থিরতা পাবে – মন, মনন। ভাবের অর্গলে ভাঙ্গে বাঁধ!
সীমানা ডিঙ্গিয়ে অনুপ্রবেশ করে দুর্মদ আবর্জনার স্রোত! দুর্ভাবনা...
ভাবের জটলায় দুর্ভেদ্য গিট! অনর্গল বুদবুদে ঘোলা জল! ক্ষীণ সম্ভাবনা!!!
চৈতন্য ডোবে অবচেতনে
ক্ষুদ্রাতীত ক্ষুদ্রতায়-
অতল গহ্বরে। গুপ্ত খোপে। অতন্দ্র অভিশাপে।
গিটের মহিমায় জাগে প্রত্যাশা। নব-চেতনা । অনুরাগের আলো, সুর, ছন্দ...
ণত্ব স্বভাব!...
কষ্টে আঁকে নতুন ভাবধারা। হারিয়ে খোঁজে ঠিকানা। আবেগের মন্দ্র রূপ।
ছোঁয়ার দূরত্বে ভাবের ভৈবব। মনোরম সুন্দর। স্থির জলে স্বচ্ছ চাতাল, মৃণ্ময়ী সুখ...
আমি/ আমরা তাকে ছুঁইনা
ফিরি বাঁকে
বক্র ভাবে, জটের বুকে খুঁজি গিটের মহিমা...
১৫/১১/১৭
বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
রোজকার বিভীষিকা
রোজকার বিভীষিকা
আত্ম বিরোধী চেতনা নিয়ে আর কত লড়বে তুমি?
আর কত পুড়বে আপন ঘরানার আগুনে! বুকে ভেতর বধ্য ভূমি,
জীর্ণ হাড় গোড় আর অগণিত শিশুর বিদেহী আত্মার যৌথ চিৎকার;
এই বিভীষিকার রোজকার মহড়ায় কত আর সইবে লাঞ্ছনার শিকার!
আমি যেমন জানি
তেমনি তুমিও জানো-
স্ব-বিরোধী দম্ভে দিনে দিনে নিজেকে ঠেলে দিচ্ছো অসম্ভবের কূপে!
এ-কি কেবল আমাকে রুখে দিতে?
না কি, আজন্ম ভয় তোমাকে দিচ্ছেনা সত্যের মুখোমুখি হতে?
কিন্তু; এমনি করে ভয়ের ঘোরে ছুটতে ছুটতে এক দিন থমকে যাবে চরণ
নিশ্বাস ফুরিয়ে মরণের ভেলা ছড়ে ভেসে যাবে জীবনের সমস্ত আয়োজন।
সে দিন কি হবে?
কি হবে অবিশ্বাসের স্ব বিরোধী এই দম্ভে! আমার থেকে দূরে রাখতে গিয়ে
আজন্ম কাল ধরে জিইয়ে রাখা নিভৃত প্রেম ; অচ্যুত আর নির্ভার রয়ে যাবে।
রয়ে যাবে আমূল অন্তর তৃষ্ণা, স্বপ্ন সম্ভার!
যারা তোমার চৌহদ্দি ঘিরে রুদ্ধ করে আছে শীতল বাতাসের পথ
তুমি কি ভুলে গেছ- তাদের অনিষ্ট শপথ!
আমাদের আড়ষ্ট শিল্পের শ্লথ চরণে, যারা বেঁধেছে অহমতাড়িত শিকল;
নকল রঙে নকল ঢঙে বদলাচ্ছে নিত্যকার মুখোশ!
আমি একটুও অবাক হইনি, -
আমাকে হার মানাতে শেষতক তাদের সাথে যখন করেছিলে আপোষ!
চেতনাগত অভ্যাস মতে, চলছি আমি অবিরাম আমার পথে
দায় এড়াতে গা ঢাকা দিই নি কখনো-
উত্তপ্ত দুপুরে তপ্ত রোদ্দুরে প্রতীক্ষমাণ থেকে থেকে পুড়িয়েছি নিজেকে
বিগলিত চিত্তে ভেসেছি ঘামের স্রোতে; রক্তে বেড়েছে টগবগে উত্তেজনা
এতো লাঞ্ছনা - এতো অবজ্ঞা, তবুও অন্তরে জাগতে দিইনি এক ফোটা ঘৃণা!
দা উ দু ল ই স লা ম ।
বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬
কোন রঙে আঁকবো তোমাকে
কোন রঙে আঁকবো তোমাকে, কোন রঙ রয়েছে বাকী?
তোমাকে এঁকেছি কাঠ পেন্সিলে, জল রঙে, তৈল চিত্রে...
এত বার... এত রঙে এঁকেছি যে-
আমি হারিয়ে ফেলেছি তোমার আসল চেহারা...মুখচ্ছবি;
তোমার একেক বার একেক রূপ, একেক বেস, একেক ঢঙ
আমাকে দ্বিধান্বিত করে দেয়;
আমি আঁকতে পারিনা সমন্বিত তোমাকে!
তোমাকে বাঁধতে পারিনি স্বভাব সিদ্ধ একক চরিত্রে
ঋতু বদলের মত তুমি বদলে গেছ ... বদলে যাও বারবার!
আমি তোমাকে তেমনিই আঁকতে চেয়েছি- এঁকেছি
যখন যেমন দেখেছি... কখনো উদার মমতার আধার ,
কখনো নিষ্ঠুর ফণীমনসার ক্ষুব্ধ ফণায় উদ্যত অহংকার;
কখনো রোদ্দুর ধারার হৃদ্য নীলকণ্ঠ...আবার
কখনো শিশির সিক্ত রক্তগোলাপের মত পরে থাকো স্নিগ্ধ হার!
প্রেমের অনুরাগে কখনো হয়ে থাকো- আমার মৃণ্ময়ী চাদর,
আবার কখনো দুর্মর আগুনে জ্বলে উঠো অচেনা চাবুক হয়ে
ভুলে যার সমস্ত সোহাগ- আদর; মুঠো মুঠো অণু কাব্য ফেলে-
আমাকে পরাস্ত করো দুর্দশার শৃঙ্খলে! বীভৎস সরোবরে
নিজেকে মেলে ধরো নগ্নতার মর্মজলে...
আমি এত বেশী দ্বিধান্বিত হই যে বুঝতে পারিনা
কোন রঙে আঁকবো তোমাকে- কোন আদলে?
দা উ দু ল ই স লা ম ।
সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬
আমি জন্মেছিলাম রাহু যুগের কবি হতে
আমি জন্মেছিলাম মাঘের হাড় কাঁপানো শীতের সন্ধ্যায়
কুয়াশা ঘেরা এক ঝাঁক অতিথি পাখির কিচির মিছির
আর মেঘ সাদৃশ্য বৃক্ষের ডগায় জোনাকির অস্থিরতায়,
শিশির ধোয়া জমিন এর সোঁদা গন্ধ মাখা হিমে
নীল হয়ে উঠা আমার পীযুষ মুখ; পরম স্নেহে
মাতৃত্বের খোমে পেয়েছিলাম প্রথম আমৃত্যু সুখ।
অতঃপর ধীরে ধীরে গভীর রাতের সাক্ষাত
নৈশব্দের জঠরে স্পন্দিত পৃথিবীর ঈষৎ দীর্ঘশ্বাস!
ধ্যান মগ্ন ঋষির নির্লিপ্ত সচেতনতা, নিকষ অন্ধকার,
চাপা কান্নার মত বিলাপ করা বৃক্ষের পাতা, ধাবমান রুহ্ ধ্বনি
একে একে চিনতে থাকি মর্মগাঁথা সৃষ্টি; জগত সংসার।
অগণিত চোখের দৃষ্টি রেখা মাপতে মাপতে অদম্য এক স্রোতে
প্রবেশ করি বৃত্তাকার জীবন গহ্বরে ……
অথচ আমি জন্মেছিলাম রাহু যুগের কবি হতে
ভ্রহ্মাণ্ডের গোপন কারাগারে বন্দি দশা হতে
আজন্ম শব্দ গুলো মুক্ত করতে; পাখীদের ঠোঁটে
কিংবা কোন বাউলের গানে-
যেই শব্দ, যেই সুর,ধ্বনিত হয়নি আজো!
আমি জন্মেছিলাম ছিলাম সেই নদীর স্রোত হতে
কৃষ্ণচূড়ার মতো মদিরা হতে হতে যেই নদী
হারিয়েছিলো তার অধরা যৌবন;
মিথ পোড়া দহনে নিজেকে জ্বালিয়ে
এসেছিলাম আমি, জাগাতে সেই নাড়িস্পন্দন!
দাউদুল ইসলাম।
২৬/১/১৬
শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬
কল্পলোকের শৃঙ্খলতা ভেঙ্গে
তোমার জন্য ছুটে আসি হন্ত দন্ত হয়ে
শিলা বৃষ্টি মাথায়
ছুটে আসি অবলীলায় অনন্ত বিমোহে,
জানো কেন?
কেন দুটি চোখ রোজ
নীল আকাশের বুকে করে যায় খোঁজ?
জানো না কেন
তোমার চিলেকোঠার কার্নিশে
কল্পলোকের শৃঙ্খলতা ভেঙ্গে বসে থাকে,
বৃষ্টি ভেজা শ্যামলিমা!
কত রঙের স্বপ্ন আঁকা হয় আমার
শুধু বলতে পারিনা-
অনন্য সব শব্দে আগের মত লিখো কিনা
বারতার কবিতা।
জানা হয় না
ঘুম ভাঙ্গা রাতের যন্ত্রণা নিয়ে অন্ধকার হাতড়ে
দাড়াও কিনা, দেয়ালে ঝুলা সেই ছবির সামনে
জানা হয় না
অপেক্ষার প্রহর গুলো এগিয়ে যেতে শিখলো কিনা।
তবু ছুটে আসি
কালের যন্ত্রণা মাথায় নিয়ে মহাকালের প্রান্তরে
ছুটে আসি হে অপ্সরা
তোমারই জন্য। তোমারই গৃহ ধারে।
শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬
বিপন্ন লিপি
বিপন্ন লিপি
স্বপ্নশূন্য হয়ে আছি দীর্ঘকাল
অলস অজগরের মত নিথর হয়ে আছি, দৈন্যতা আর-
বেশ কিছু জঞ্জালে চাপা পড়ে আছি অতল শূন্যতায়।
সময়ের তাগড়া ঘোড়া, অসংখ্য গিরগিটি, সরীসৃপ
এবং কি... পিপীলিকার সারি সারি বহর মাড়িয়ে যায়;
মাড়িয়ে যায় ইচ্ছে মতন...
আমি শব্দশূন্য- অক্ষরশূন্য, নির্বাক চেয়ে থাকি অথবা
অদেখার ভান করে সমস্ত উত্তাপ ঢেকে রাখি অন্তরাত্মায়।
কি বলার আছে আমার, কি বলা যায়?
সেই কবেকার অস্ফুট স্বর রুদ্ধ হয়ে আছে নীলকণ্ঠিতে,
ওত পেতে থাকা সবুজ চোখের দানো আর বিষধর সর্প-
রক্তশূন্য দেহে অবিরাম দৌড়চ্ছে আততায়ীর দুর্মার চরণে;
কষ্টের সীমা রেখা ছাড়িয়ে বিপন্ন সংসার-
গুটিয়ে আছে অন্ধকার দ্বীপের তীর ঘেঁষে, সন্ধ্যার জোনাকিরা
দুর্গম পথের গল্প করতে করতে আমার ওষ্ঠেই রেখে যায়
পিপাসার চিহ্ন, বেশুমার দহন।
কি করার আছে আমার, জানি না- কি করা দরকার...
দূর সাঁওতাল পথে হেটে যাওয়া বাউলের গান-
শান্ত জলধির মতন পিস পিস করে দিয়ে যায় নির্বোধ বার্তা,
আশাহত শিশুর কাঙ্ক্ষিত খেলনার মত প্রিয় পাণ্ডুলিপিরা
অনিকেত দৃষ্টি মেলে বিসর্জন দেয় অজস্র স্বপ্ন-বারতা।
চন্দ্রচ্যুত উল্কা পিণ্ড অথবা কোন উত্তপ্ত শিলা খণ্ড -
পতিত হয়নি এই বুকে;
তবু উপত্যকা জুড়ে এতো অস্থির আগুন, লেলিহান শিখা...
কি করার আছে আমার, জানি না- কি করা দরকার...
দা উ দু ল ই স লা ম ।
৭/১০/১৬
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)




