শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৬

অভিমানের আত্মা নীল

অভিমানের আত্মা নীল
দুঃখী শব্দের মিছিল, আর
অশ্লীল অন্ধকার।
দীঘল রাত
আমার কলম ছেড়ে-
কবিতার অলংকার
ঠায় নিয়েছে বাইজির চরণে;
উলঙ্গ নৃত্যে উন্মত্ত অহংকার
শরীর বৃত্তের নগ্ন আয়োজনে।

তুমি কি সে-ই?
আমার প্রেমের দেবী, প্রাণের প্রতিমা
হৃদয়ের চৌহদ্দি জুড়ে
কবিতার উপমায় সাজানো প্রতিচ্ছবি!
তুমি কি সে-ই?
যেই রমণীর আঁচল ভরে
পূজার নৈবদ্য অর্পণ করে,
ধন্য হয়েছি সহস্র বার।
উজাড় বুকে
যে আমাকে দেখিয়েছিল জোছনা উদ্যান,
না; তুমি নও সে-ই
যার চোখে পেয়েছিলাম অমর্ত্যের সন্ধান!

আমি জেনেছি
কষ্টের ধৃষ্টতা থেকে-
এই তুমি সে-ই হতেই পারো না!
হেমনীলের জৈবিক উৎকর্ষ ছেড়ে
যেই আত্মা আমাকে নিয়ে
উড়ে গিয়েছিল অবিশ্রান্তির পবিত্র অন্তরীক্ষে……।।

দাউদুল ইসলাম।
১৬/১/১৬


বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৬

জীবনের আয়োজন

জীবনের আয়োজন


দিনের শেষে ভাবছো বসে
জীবনের আয়োজন
আমিও ভাবছি অবশেষে
তোমাকেই আমার একান্ত প্রয়োজন।

প্রাণের আগলে প্রাণের ধ্বনি
যৌবনের অনলে জীবন পোড়ে
অতল হৃদয় নিংড়ে
নীরবে কাঁদে প্রেমের বাণী।

আঁকছো তুমি আপন মনে
কাঁদছো একা যামিনীর বিজনে
আমিও কাঁদছি, বুকে যন্ত্রণা অগাধ
ধুকে ধুকে মরছি;  তবু- 
তোমার জন্য করছি জীবনের আবাদ।

মনের অগোচরে বুনছো মনের ব্যাধি
জীবনের তরে আমাকে পাও যদি,
আমিও লিখছি মরমী কবিতা-
জন্ম জন্মান্তরের গান
আদরে অনাদরে বেড়ে উঠা তোমার আমার সন্তান।

সাজছো তুমি মনের মতন
ফের মুছে পেলছো -
আড়ালের বিষণ্ণতারা ভেংচি কাটে যখন,
জাগছি আমিও তৃষিত যৌবনে
আপন দহন নিভেছে আপন ক্রন্দনে
স্তব্ধ জীবন শৃঙ্খলিত চরণে।

 বিষের ঘা-এ বিষের দংশন
নির্বাক নয়নে দেখে যাচ্ছি নগ্নতার উত্থান- পতন।

দাউদুল ইসলাম।
১৩/১/১৬


মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৬

তোমার শয্যা জুড়ে ছারপোকা


তোমার শয্যা জুড়ে ছারপোকা
রক্তের গন্ধ পেয়ে, ঝেঁকে বসে রক্তপানের আসক্তি
মোহ চুম্বনের মত ঘুমের দেহে ওমের আসক্তি!

সম্প্রতি তুমি টের পেয়েছো-
নীরব আততায়ীর মত, অথচ একান্ত চিত্তে
বুকের বৃন্ত ঘিরে ওদের নিমগ্ন উপস্থিতি, নাভির গর্তে
গ্রীবার বাঁকে, উরুময় শাখা প্রশাখায় একি! বিস্তীর্ণ
রক্তজবার মতন মন্থন চিহ্ন!

মুক্ত বিচরণে ওরা চষে বেড়ায় তোমার শয্যা,
তোমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ! বিচলিত দেহ কোষের অসহ্য চটপটে
যখন ঘুম ভাঙ্গে- তারা
ততক্ষণে ঢের সারা সঙ্গম নিষ্পত্তির ঢেকুর তুলে
হেলে দুলে চলে গেল। আমি দেখলাম সেই চলনে
অধীর তৃপ্তির রেখা, হাসি মাখা বিজয়ী শত্রুর
যন্ত্রণা আঁকা দেখতে দেখতে ; ভাবলাম -
মানুষের চেয়ে ছারপোকাদের ভাগ্য কত প্রসন্ন!

পরদিন সকালে
সেই শয্যা বিস্তর পাতি সব ফেলে দিলে। গৃহের কোনে
বাড়ীর লনে কীটনাশক ছেটালে
যদিও অনিশ্চয়তার আশংকায় ঘুমাতে পারলে না
তারপর ঘর, বাড়ী আসবাবপত্র সব বদলে ফেল্লে
বদলে ফেল্লে আমাকেও...

পরিত্যক্ত আসবাবের মতন
আমি আর গৃহ পাইনি, হইনি ত্রাণ মুখো-
যদিও জানি আজো তুমি পাওনি পরিত্রাণ
থামেনি তোমার রক্তে ছারপোকাদের স্নান!
নতুন আসবাবে পুরনো সেই রক্ত খেকোরা মেতেছে উল্লাসে
নতুন প্রেমিক নতুন পরুষে মত্ত তুমি আমারই সর্বনাশে!

দা উ দু ল ই স লা ম।
১১/১/১৬

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৬

ধৃষ্টতায় ছানাবড়া ঈশ্বরের চোখ


প্রবল তুষার পাত উপেক্ষা করে
চিত্ত উন্মাদ পায়রার মতন উড়ে এসেছ খোলা মাঠে!
ঠাণ্ডায় তোমার ভীষণ এলার্জি, ঘন ঘন হাঁচি
আর নাক টানার ধকলে সকাল টা এলোমেলো;
কাছে এলে, তখন তো আর হুশ থাকতো না !
পাখীর বাসার মতন কোঁকড়ানো চুলে ম ম করা
মেহেদীর সুগন্ধ, নিবিড় উষ্ণতা মেলে বুকে আগলে
নেয়া আমার মুখ -
এমন দুর্দান্ত ধৃষ্টতায় ছানাবড়া ঈশ্বরের চোখ 
তুষার ঝড়ের আড়ালে পিষ্ট হল তোমার আমার উন্মুক্ত বুক!

উর্বশী চোখে দিগ্বিজয়ের নেশা।
ধারা প্রপাতও থমকে দাড়িয়ছিল হয়তো-
প্রেম আর প্রতিজ্ঞা বুকে ধারণ করে আলিঙ্গন বদ্ধ
প্রাচীন শিলা খণ্ডের মত রুখে দিতে চাইলে হিমেল স্রোত!

উত্তাপে  বিগলিত আমার পাঁজর। চিত্ত বিশুদ্ধ,
সহসাই অধিষ্ঠিত অন্তর প্রণত হলো পরিশুদ্ধ তপস্যায়
প্রাণের পরতে পরতে অমর্ত্য অনুরণন
জীবন উৎসর্গ অদম্য সেই ভালোবাসায়, প্রত্যাশায়।

দাউদুল ইসলাম
৯/১/১৬

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৬

ওষ্ঠ ছুঁয়ে আছে অমৃত স্বাদ


এখনো আমার ওষ্ঠ ছুঁয়ে আছে অমৃত স্বাদ
হিজল রাঙ্গা ঠোঁটে প্রেয়সীর উন্মাদ চুম্বন!
যতন করে আগলে রেখেছি সেই রাত-
মদিরার মতন  উন্মুক্ত আকাশ বেয়ে নামা শিশির
কস্তুরীনাভ গন্ধে রঞ্জিত পূর্ণিমার চাঁদ, হাসির
কলরবে স্পন্দিত বুক থেকে বিতাড়িত বিষাদ।

- দাউদুল ইসলাম

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫

তোমাকে চিনেছি আমি


তোমাকে চিনেছি আমি
ভোরের শিশির
নৈশব্দের দীর্ঘশ্বাস তুমি
কান্না নিরবধির
ছুঁয়েছো কবির অন্তর
আতপ্ত হাতে
যৌবনন্ধ দাবীর দুর্মার
অনল নেভাতে,
প্রজ্বলিত চিত্তে বেমালুম
হই মুখোমুখি
সুডোল বুকের উষ্ণতার
দিয়েছো ফাঁকি!
নাকি এমনিই তোমার
স্বভাব? মমতার
হাতছানিতে পোড়াও কাবাব।
সারা রাত
নির্জর শিশির প্রপাত,
আমি চিনেছি তোমাকে-
বুকের ভেতর বেহিসাব আঘাত।
দা উ দু ল ই স লা ম।

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৫

জখমের জখম -আমি মৃত্যুঞ্জয়


 জখমের জখম -আমি মৃত্যুঞ্জয়
 -------------------------------
গড্ডালিকায় প্রবাহিত স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে
আমি বারবার হোঁচট খেয়েছি, দুমড়ে মুচড়ে পড়ে গিয়েছি
আবার দাঁড়িয়েছি উঠে; আবার পা বাড়িয়েছি লড়াইয়ের মাঠে! 
পেছন থেকে উড়ে এসেছে অগণিত ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ
রক্ত চক্ষুর আক্রোশ আর দাম্ভিকতার নগ্ন অহংকার; নিশ্চুপ রাতের
অন্ধকারে আততায়ীর গুপ্ত আক্রমণ সহ নানান বাঁধা বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে
এই আমি আজো টিকে আছি  সংক্রামক ব্যাধির সম্মুখ যুদ্ধে!

অথচ কেউই আমার শত্রু নয়! অপর নয়! 
পার্থক্য শুধু সবার মত একিই ক্ষুরে মুণ্ড করিনি আপন মাথা
দণ্ডায়মান ভৃত্যের মত, ( ভৃত্যদের ও থাকে আত্মসম্মান)
পোষা কুকুরের মতো লিকলিকে জিব্বহা নেতিয়ে করতে যাইনা
সমাজপতিদের তোষামোদ!

হ্যাঁ-তে হ্যাঁ
আর না তে না মিলিয়ে নির্লজ্জ চাটুকারিতা কে যদি ভালোবাসা বলা হয়
তবে ভালবাসা নামক শব্দটির বিলুপ্ত হোক চিরতরে; 
কলুষিত মরু প্রান্তরের মত  ধু ধু করুক পৃথিবীর জনপদ গুলো
সুনসান পোড়া বাড়ীর মত জনশূন্য থাকুক অন্তর আঙ্গিনা!

আমার অন্তরের বিনয়াবনতা আর চেতনায় বিদ্রোহ 
সঙ্গে কেহ থাকুক না থাকুক, 
জোয়ারের বিপরীতে আমি অ-কুর্ণিশ ! করিনাকো সমীহ,
আমি উল্লাস!
আমি উদোম! 
কুলাঙ্গারের সর্বনাশ আমি; প্রয়োজনে হতে পারি নির্মম!
জখমের জখম আমি -মৃত্যুঞ্জয়
প্রেমের বলিদানে  নির্ভীক আমি;নিঃশেষের বিজয়।

দা উ দু ল  ই স লা ম।
০৭/১১/১৫