বুধবার, ৪ জুলাই, ২০১২

কানামাছি খেলা

এই কোন কানামাছি খেলা খেলছি
এই কোন লীলায় কাটছে জীবন সারাবেলা
কিসের সন্ধানে করি অনুসন্ধান
কিসের নেশায় ভেসে যাই দিনমান।
কোন কারণে অন্তরীক্ষে জাগে হৃদস্পন্দন
কোন দুঃখে বুক ভেঙ্গে উঠে অরোধ্য ক্রন্দন
ফের কিসের আশায় মুছি অশ্রুজল
হাসি ভাসি বাঁধি স্বপ্ন শতদল।
কে জানে?
কে জানে কালের অভিযাত্রায় কে বাজায় কালের ধ্বনি
রাত্তির গহীনে আঁধার বনে কে করে আলোর বিকিকিনি
দুর্গম কান্তে কে কারে পারবে চিনতে
কে কার হাত ধরবে
ঝড়ের রাতে কে কার বুকে মাথা গুঁজবে
কার সুখে কে হাসবে
কার দুঃখে কে কাঁদবে
কে গাইবে কার শোকের মাতাম
সুখের বিলাসে কার উল্লাসে কে নাচবে ঘুঙ্গুর উদ্দাম।
বসে বসে ভাবি সবিই
শূন্যতার অভিমুখে দৃষ্টি রাখি
আমার আগে হাজারো কবি হয়েছে নিরাশ
নিরুত্তর আকাশ দেয়নি উত্তর-আভাস।

সোমবার, ২ জুলাই, ২০১২

এখন কি আর সেই সময় আছে

মধুর মধুর স্মৃতি গুলো বারংবার
শুধু শুধু ফিরে আসে
এখন কি আর সে সময় আছে
বসে বসে বুনবো সোনালু ফুলের অলংকার!

মনের গোপন কুঠরিতে গোপন এক ব্যথা
নতুন করে দেখা দিয়েছে নতুন মাত্রার কবিতা
এখন কি আর সেই সময় আছে
বসে বসে ভাববো আকাশ কুসুম বারতা।

যৌবনের স্বর্ণালী সূর্য করে উদাত্ত আহ্বান
প্রমত্ত নৈবদ্যে হই যেন বীর্যবান
এখন কি আর সেই সময় আছে
খরতাপ মাথায় গাই রাখালিয়া গান।

এখন আমরা ডুবে আছি লাভ লোকসানের হিসেবে
সৃজনশীলতার মুখোশে জাগতিক ফায়দা নিচ্ছি লুফে
এখন আর প্রেম নয় জৈবিকতাই মুখ্য
কবিতার নামে নামের ফুটানিতেই বেশী দক্ষ
এখন কি আর সেই সময় আছে
মানবতার জন্য নির্ধারণ করি জীবনের লক্ষ্য!

রবিবার, ১ জুলাই, ২০১২

দূর্বার জীবন রেখা




                                           
এবার আসুক ঝড় গহীন অরণ্যে
তোমার রহস্যাবৃত যৌবনে,
কল্পনার অসীম অয়নে রচিত হোক দূর্বার জীবন রেখা
এবার চুরমার হোক তোমার সম্যক আড়ষ্টতা!

বহুদিনের ঘূর্ণিত স্বপ্নমন্ডল আজ উত্তপ্ত
অতল সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপ
সোমত্ত পূর্ণতায় ফুঁসে উঠা জলোচ্ছ্বাস
এবার দুমড়ে মুচড়ে দিক তোমার অক্ষত দ্বীপবাস
তলিয়ে দিক প্রজ্বলিত যৌবনের তীব্র তিয়াষ।

তারপর………
শান্ত সজীব নির্জনতায় আমি ওষ্ঠদ্বয় ছোঁয়াবো
অনন্ত রহস্য’পত্যকার ঐশীনিষ্ঠ দুটো স্তনে
গভীর নিশ্বাসে লুপে নেবো নিরুদ্বিগ্ন মাধুর্যতা
প্রবল বিশ্বাসে সঞ্চলিত ভালোবাসার স্তবক স্থাপন করবো
তোমার অন্তরের লুক্কায়িত ধনরাজ্যে
অপার ঐশ্বর্যে যেখানে বেচে থাকবো আমি কাল-মহাকাল।
১৫/৫/১২

শনিবার, ৩০ জুন, ২০১২

আমি আর স্রোত

ভাসতে ভাসতে স্রোতের সাথে চলে যাই নিঃস্রোতের দেশে
যেখানে স্রোতেরা আর স্রোত থাকেনা। নিঃসত্ত্ব নিমেষে
মমতার পরশে নিমজ্জিত হয় আত্ম-আবিষ্কারের ধ্যানে-
স্রোত আর আমি
আমি আর স্রোত
স্রোতের আমি- আমার স্রোত
কে কার? কার কি?
আমিই স্রোত!
না না স্রোতই আমি………
আকার একাকার নিরাকার……
নিরাকার-আকার- একাকার
তারপর আর ভাবতে পারিনা
পারিনা আবিষ্কার করতে অনাবিষ্কৃত রহস্যা’ধার তত্ত্ব সত্ত্ব বাচ বিচার শর্ত নিঃশর্ত
চক্রাবৃত্তে ঘুরপাক খাই ঘুরপাক খাই
পথের সন্ধান পাইনা
এই বুঝি পেলাম পথের দেখা
শঙ্কা আশঙ্কা ফেরিয়ে ফের পূর্বাবস্থান!
তবে কি হবেনা
পথের দেখা পথের চলা পথের লীলা
আর কতক্ষণ সময় পাবো
খুঁজতে এই শেকড় মেটাতে আত্মিক জ্বালা।

বুধবার, ২৭ জুন, ২০১২

অতলান্তিক মূর্ছনা



সেই কখন থেমে গেছে স্রোতের উন্মাদনা
ভরা নদী ক্ষান্ত এখন তবু হৃদয় ব্যাধি দিচ্ছে ব্যঞ্জনা
 পূর্ণিমার সারা নিশি দূর সুদূরে গিয়েছি ভেসে
সুরে বেসুরে ডেকেছি তারে অতলান্তিক মূর্ছনা।

নিস্তরঙ্গ কিন্তু মাতাল এক অভিলিপ্সায়
ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছে নদী
তলে তলে ফুঁসে উঠছে সম্যক তৃষা
বুক জুড়ে ক্ষীণ কম্পনে ভাসছে চৈতালি চাঁদ
তবু শূন্যতার ব্যাপ্তি তবু লেগে থাকে দারুণ এক বিষাদ।

কালের আবর্তে যদিবা জাগে স্রোত
যদি আবার আসে ছন্দ বারতার জোয়ার
কবিতার এক একটি পংত্তির মতো-
আমি ছোঁয়াবো নির্লিপ্ত দুটি ঠোঁট
পান করবো অগাধ
সারা দিন সারা রাত
দুনিয়ার তাবৎ নদী গুলোয় ছড়িয়ে পড়বে নিখাদ প্রেমের অনুরণন
নির্জন মৌনতা ভেঙ্গে স্রোতের প্রজননে সৃষ্টি হবে মধুর দৃশ্যপট!

মঙ্গলবার, ২৬ জুন, ২০১২

বিষণ্ণতার মাঝখানে দেয়াল থাকেনা


বিষণ্ণতার মাঝখানে দেয়াল থাকেনা
বিষণ্ণরা আদিগন্ত, অ-মাপা প্রান্তর পেরিয়ে সীমানা ছাড়িয়ে যায়
বর্ষার আসন্ন জলমগ্নতা কোথায় কোথায় পৌছাতে পারবে
খা খা রোদ্দুর ধু ধু খরায় চৌচির বুকের জমিন; অতলান্ত রুগ্নতায়
জীর্ণ শীর্ণ কঙ্কালসার অস্থি মজ্জায় বিষণ্ণতার মরীচিকা ঝেঁকে বসেছে
হৃদয়ের খিস্তি শীৎকারে দুর্নিবার মাতম বাজে
বৃষালী গোখরোর নির্দয় ছোবালে রক্ত-নীল হারানো লালিমা খোঁজে।
আত্মা থেকে পরমাত্মায় যোজন যোজন দূরত্ব
অগুনতি শর্ত আর ক্ষীণ অবিশ্বাসের বিস্তীর্ণ দেয়াল
চৌদিক থেকে সহস্র চক্ষু প্রশ্নাতীর তাক করে আছে
বিদীর্ণ বুকের চাতালে কড়মড় করে কম্পন তুলে অচিন বেদনা
তাবৎ জঘন্ন্যতা মাথায় নিয়ে আমিও একটি প্রশ্নের তীর ছুঁড়ি
“ নৃশংসতাকে নগ্ন করতে চাও না নগ্নতাকে নৃশংস”?
বাঁচার জন্য বলছিনা
মৃত্যুর বিচ্ছিন্ন হীনম্মন্যতা জানার জন্যই প্রশ্নটি করলাম।

বর্ষার মৌমিত উৎকর্ষ



অবশেষে রাতের বুক চিরে নামলো বর্ষণধারা
তীব্র ভস্মতায় এবার সুখের শীতল ছোঁয়া লাগুক
খুলে দাও জানালার কপাট তুলে দাও ভারী পর্দা
ঝিরি ঝিরি হাওয়ায় ফিরে আসুক আধরা মাধুকরী
খুলে দাও চুলের বাঁধন মেলে দাও গোপন সমীরণ
মুক্ত গগনের উন্মুক্ত আন্দোলনের হোক সফল বিচরণ
অঞ্জলি পেতে বরণ কর
বুভুক্ষুর যত্তো ক্ষুধা আজ হোক নিবারণ
আমাকেও সিক্ত কর
রিক্তের আড়ালে আসতে দাও প্রবণের হর্ষ
মৌমিত উৎকর্ষে ডুবে যেতে দাও
লুটে যাক সকল জলাঞ্জলির মোহ
মিটে যাক দীর্ঘশ্বাসের অতলে চাপা বিরহ
ছুটে যাক চেতনার সুতীব্র প্রাঞ্জলতা
অনিন্দ্য আবহে জীবনের রান্ধ্রে রান্ধ্রে পৌঁছে যাক মমতা।