শনিবার, ৩০ জুন, ২০১২

আমি আর স্রোত

ভাসতে ভাসতে স্রোতের সাথে চলে যাই নিঃস্রোতের দেশে
যেখানে স্রোতেরা আর স্রোত থাকেনা। নিঃসত্ত্ব নিমেষে
মমতার পরশে নিমজ্জিত হয় আত্ম-আবিষ্কারের ধ্যানে-
স্রোত আর আমি
আমি আর স্রোত
স্রোতের আমি- আমার স্রোত
কে কার? কার কি?
আমিই স্রোত!
না না স্রোতই আমি………
আকার একাকার নিরাকার……
নিরাকার-আকার- একাকার
তারপর আর ভাবতে পারিনা
পারিনা আবিষ্কার করতে অনাবিষ্কৃত রহস্যা’ধার তত্ত্ব সত্ত্ব বাচ বিচার শর্ত নিঃশর্ত
চক্রাবৃত্তে ঘুরপাক খাই ঘুরপাক খাই
পথের সন্ধান পাইনা
এই বুঝি পেলাম পথের দেখা
শঙ্কা আশঙ্কা ফেরিয়ে ফের পূর্বাবস্থান!
তবে কি হবেনা
পথের দেখা পথের চলা পথের লীলা
আর কতক্ষণ সময় পাবো
খুঁজতে এই শেকড় মেটাতে আত্মিক জ্বালা।

বুধবার, ২৭ জুন, ২০১২

অতলান্তিক মূর্ছনা



সেই কখন থেমে গেছে স্রোতের উন্মাদনা
ভরা নদী ক্ষান্ত এখন তবু হৃদয় ব্যাধি দিচ্ছে ব্যঞ্জনা
 পূর্ণিমার সারা নিশি দূর সুদূরে গিয়েছি ভেসে
সুরে বেসুরে ডেকেছি তারে অতলান্তিক মূর্ছনা।

নিস্তরঙ্গ কিন্তু মাতাল এক অভিলিপ্সায়
ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছে নদী
তলে তলে ফুঁসে উঠছে সম্যক তৃষা
বুক জুড়ে ক্ষীণ কম্পনে ভাসছে চৈতালি চাঁদ
তবু শূন্যতার ব্যাপ্তি তবু লেগে থাকে দারুণ এক বিষাদ।

কালের আবর্তে যদিবা জাগে স্রোত
যদি আবার আসে ছন্দ বারতার জোয়ার
কবিতার এক একটি পংত্তির মতো-
আমি ছোঁয়াবো নির্লিপ্ত দুটি ঠোঁট
পান করবো অগাধ
সারা দিন সারা রাত
দুনিয়ার তাবৎ নদী গুলোয় ছড়িয়ে পড়বে নিখাদ প্রেমের অনুরণন
নির্জন মৌনতা ভেঙ্গে স্রোতের প্রজননে সৃষ্টি হবে মধুর দৃশ্যপট!

মঙ্গলবার, ২৬ জুন, ২০১২

বিষণ্ণতার মাঝখানে দেয়াল থাকেনা


বিষণ্ণতার মাঝখানে দেয়াল থাকেনা
বিষণ্ণরা আদিগন্ত, অ-মাপা প্রান্তর পেরিয়ে সীমানা ছাড়িয়ে যায়
বর্ষার আসন্ন জলমগ্নতা কোথায় কোথায় পৌছাতে পারবে
খা খা রোদ্দুর ধু ধু খরায় চৌচির বুকের জমিন; অতলান্ত রুগ্নতায়
জীর্ণ শীর্ণ কঙ্কালসার অস্থি মজ্জায় বিষণ্ণতার মরীচিকা ঝেঁকে বসেছে
হৃদয়ের খিস্তি শীৎকারে দুর্নিবার মাতম বাজে
বৃষালী গোখরোর নির্দয় ছোবালে রক্ত-নীল হারানো লালিমা খোঁজে।
আত্মা থেকে পরমাত্মায় যোজন যোজন দূরত্ব
অগুনতি শর্ত আর ক্ষীণ অবিশ্বাসের বিস্তীর্ণ দেয়াল
চৌদিক থেকে সহস্র চক্ষু প্রশ্নাতীর তাক করে আছে
বিদীর্ণ বুকের চাতালে কড়মড় করে কম্পন তুলে অচিন বেদনা
তাবৎ জঘন্ন্যতা মাথায় নিয়ে আমিও একটি প্রশ্নের তীর ছুঁড়ি
“ নৃশংসতাকে নগ্ন করতে চাও না নগ্নতাকে নৃশংস”?
বাঁচার জন্য বলছিনা
মৃত্যুর বিচ্ছিন্ন হীনম্মন্যতা জানার জন্যই প্রশ্নটি করলাম।

বর্ষার মৌমিত উৎকর্ষ



অবশেষে রাতের বুক চিরে নামলো বর্ষণধারা
তীব্র ভস্মতায় এবার সুখের শীতল ছোঁয়া লাগুক
খুলে দাও জানালার কপাট তুলে দাও ভারী পর্দা
ঝিরি ঝিরি হাওয়ায় ফিরে আসুক আধরা মাধুকরী
খুলে দাও চুলের বাঁধন মেলে দাও গোপন সমীরণ
মুক্ত গগনের উন্মুক্ত আন্দোলনের হোক সফল বিচরণ
অঞ্জলি পেতে বরণ কর
বুভুক্ষুর যত্তো ক্ষুধা আজ হোক নিবারণ
আমাকেও সিক্ত কর
রিক্তের আড়ালে আসতে দাও প্রবণের হর্ষ
মৌমিত উৎকর্ষে ডুবে যেতে দাও
লুটে যাক সকল জলাঞ্জলির মোহ
মিটে যাক দীর্ঘশ্বাসের অতলে চাপা বিরহ
ছুটে যাক চেতনার সুতীব্র প্রাঞ্জলতা
অনিন্দ্য আবহে জীবনের রান্ধ্রে রান্ধ্রে পৌঁছে যাক মমতা।

জমি বুঝে জলজ ভাষা


বৃষ্টি আর ঝর্না দুটোই ধারাপাত ধর্মী
পার্থক্য কেবল এক জন পতিত হয় নিরবধি
আরেক জন গলে কেবল মেঘেরা হাত পাতে যদি
নিজস্ব ভাষায় শীৎকারে দুটোই সুরের প্রেমী।
পতিত জমি বুঝে জলজ ভাষা
চির যৌবনা খনিজ উত্তাপে ঝর্নার অনিন্দ্য প্রেম লীলা
সুর ছন্দে প্রেমজ সন্তর্পণে চির স্নিগ্ধ বৃষ্টির চলা কলা।
ঝর্না চায় দুরন্তপনা বুকের গভীরে অদম্য উচ্ছ্বাস
নির্জনতা ভেদ করে কান্নার জলে রচনা করে স্বপ্ন-বিন্যাস
বৃষ্টি মগ্নতায় বিগলিত মেঘেরা বিচরণ করে বৃক্ষ লতা ভূমির অভ্যন্তরে
নিখাদ আলিঙ্গনে নির্বিঘ্ন সঙ্গমে নির্গমন করে অতলান্তিক উষ্ণতায়
জলজ ভাষার পরিভেদে আজ একাত্ম ঝর্না আর বৃষ্টি
প্রমত্ত প্রবণে অনন্তপানে ছুটছে অবিরাম
দৃষ্টি নন্দন বিরল স্রোতে আমিও ভাসিয়ে দিলাম-
হৃদয় খসা দু’টো সবুজ পাতা।

নিষ্কণ্টক ভালোবাসা


আমি আর যাই হই কারো অপেক্ষার অস্বস্তি হতে পারিনা
চোখের নির্ঘুম চটপট হতে পারিনা
সম্যক সাধনার পরেই আমি নিজেকে গড়েছি অল্প অল্প
প্রেমাঞ্জলীতে তাহার সঙ্গেই গড়েছি সম্যক্‌সঙ্কল্প।
বেদনার চির নীলে আমি সলেছি আপন অশ্রুজল
তিলে তিলে সাধনার সমূলে দেখেছি তীব্র অনল
দূর্বার নির্বাণে জ্বলে পুড়ে হয়েছি অঙ্গার
প্রেমের নির্মল কাননে আজ তাই ফুটে ফুল নিরহংকার।
উসুলের শূলে কারো দীর্ঘশ্বাস হতে পারিনা
লাভ লোকসান ভুলে বিশ্বাসের নাটাই হাতে ছেড়ে দিই উন্মুক্ত-কাশে
পৃথিবী ঘুরে সে আসবে ফিরে আমার ভালোবাসার নিষ্কণ্টক উচ্ছ্বাসে।

শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০১০

বাদল বেলা

                                              বাদল বেলার মাদল সুরে গেয়ে ছিলেম আমি
                                              চপল দোলা চঞ্চল নূপুরে নেচে ছিলে তুমি
                                              নরম কোমল ফসলের চাদরে খেলে ছিলো হাওয়া
                                               শিতল জলে নেয়ে দু'জন পেয়ে ছিলাম পরম ছোঁয়া
                                               ধোঁয়া ধোঁয়া মেঘাঞ্চলের ঘোমট মুখের কায়া
                                               মুক্তা ঝরা হাসিতে তুমি ফুটিয়ে ছিলে মায়া
                                               গৌধুলি রঙের আঁচলে ঢেকে ছিলে মুখ
                                               বাদল বেলার নির্জন বিকেলে খুলে ছিলো আকাশের বুক
                                               সুখের করতলে জমিয়ে ছিলেম বিন্দু বিন্দু প্রেম
                                               ছন্দানন্দে চুমিয়ে দুজন জড়িয়েছি উষ্ণতা
                                               সন্ধাধাঁরে লুকিয়ে লাজ লজ্জা
                                                সলেছি বাদল বেলার পবিত্র পূজা।

                                                                            ২৩ইজুলাই'১০