মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০১৫

বেশ করেছো


ভালোই করেছো বুকের সীমানায় প্রাচীর গড়ে
তা নাইলে আমার দুর্মর গমনে ছাই হতে পুড়ে!

বিবাগী মন
চিত্ত চঞ্চল আর নির্বাণ দহন,
আমিতো সয়ে গেছি তোমার অনাহুত নির্মম আচরণ!
সয়ে গেছি যখন সাম্রাজ্য আমার ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃচিহ্ন প্রায়,
শাশ্বত শান্তি অপমানিত  তোমার বেধড়ক অহমিকায় যখন;
সয়ে গেছি কান্নার নির্লজ্জ আহাজারি, বজ্জাত উপহাস...।

ভালই করেছো, হতবিহবল বেঈমানি আর অকথ্য কথন
সু-প্রাজ্ঞ , সুদক্ষ চলা কলা
অন্যথা আমার প্রগাঢ় আহ্বানে হয়ে যেতে চির উতলা;
কি করে উপেক্ষা করতে
অস্তিত্বের নিবিড়ে ধ্রুপদী চুম্বন আর অর্গল আলিঙ্গন।

বেশ করেছো
আমাকে নিঃশেষ করতে করতে গড়ে নিয়েছো সীমানার দেয়াল
অন্যথা আমি হয়তো হয়ে যেতাম চূড়ান্ত মাতাল।

দা উ দু ল  ই স লা ম।

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০১৫

খুলে যাবে সব ক'টা জানালা




একদিন মুখোশের ভেতর ঢুকে যাবে আগুনের দৈত্য
একদিন দহনের জ্বালায় ঝলসে যাবে সকল অকথ্য মিথ্যা
একদিন আলোর টানেল খুলবে মুখ
একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে মানবিক সুখ,আমূল সত্য!

একদিন উদাম দেহে নামবে সভ্যতার জনস্রোত
মুখোশের আড়ালে মুখ গুলো খুঁজবে অন্ধকার গুহা
একদিন সূর্যের কিরণে রাঙাবে তেপান্তরের মাঠ
একদিন পাখী ডাকবে
একদিন বৃষ্টি নামবে
ভরা গাঙ্গে জোয়ার বইবে, নায়ের পালে লাগবে হাওয়া।

একদিন সব ঝকঝকে তকতকে পাক পবিত্র হবে
একদিন পট পট করে পতাকা উড়বে
সব ক'টা জানালা খুলে যাবে
একদিন ওরা আসবে মাতৃত্বের আঁচলে নিশ্চিন্তের নিদ্রা যাবে;
একদিন ফুল ফুটবে, চির অম্লান-
বিজয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে যে হাসতে হাসতে উৎসর্গ করবে আপন প্রাণ।

দা উ দু ল ই স লা ম।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫

গোপন অবাধে

গোপন অবাধে
-------------------------

আঁধার রাতের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে
খুলে নিলাম বুকের আগল, কষ্টরা দম পেলুক অবাধে
নিস্তব্ধতা ভেদ করে আড়মোড়া ভাঙ্গুক বিপুলা দীর্ঘশ্বাস!
অন্তর অভ্যন্তরে স্তূপ বাঁধা নির্বেদ গোপন নির্বাণ দহন,
অন্ধকারে তো কষ্টের কোন ভয় থাকে না; যতক্ষণ না
তথা কথিত আলোর সভ্যতা ভেংচি কাটে!!

রাতের চোখ বাঁধা
হাত বাঁধা
অন্ধকার সিম্ফনি আর মৌন ব্যথা
ইচ্ছেমত বিদ্ধ হয় , প্রবিষ্ট হয়- একে অন্যের কোটরে।
দা উ দু ল ই স লা ম।
৩১/৭/১৫

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস: পুনরুদ্ধার

দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস: পুনরুদ্ধার: বিলুপ্ত নগরীর মত,প্রাচীন প্রত্ন তত্ত্বের মত মহা কালের মহা সত্যের মত- এক দিন পুনরুদ্ধার হবে আমাদের সোনালী দিনের প্রেম, আদিম ধুলো মাখা, শ্য...

পুনরুদ্ধার



বিলুপ্ত নগরীর মত,প্রাচীন প্রত্ন তত্ত্বের মত
মহা কালের মহা সত্যের মত-
এক দিন পুনরুদ্ধার হবে আমাদের সোনালী দিনের প্রেম,
আদিম ধুলো মাখা, শ্যাওলা পড়া প্রাসাদের মত
উদ্ধার হবে ভালোবাসার অলি গলি; মধু মত্ত স্মৃতি!
সে দিন কেমন করে রুখবে উদ্যত হৈ চৈ

বিস্ফোরণের পারমানবিক শক্তির মত মুহূর্তেই রটে যাবে
কল্পলোকের কাহিনী!
শত সহস্র বিনিদ্র রজনী, যোজন যোজন চুম্বন আর;
আষ্টেপৃষ্ঠে অংকিত সোহাগ চিত্র, খুনসুটি বেশুমার
একে একে উদ্ঘাটিত হবে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস!
তুমি কি করে রুখবে সেই সময়; সেই অনুসন্ধানীর উচ্ছ্বাস!

 নগরীর অলিতে গলিতে আমাদের আলিঙ্গনের ম ম সুবাস
প্রাসাদের দেয়ালে, ইটের গাঁথুনিতে , মরচে পড়া লণ্ঠনের গায়
খুঁজে পাবে হাজারো অপেক্ষা, নিবড় দীর্ঘশ্বাস
 প্রিয় সেই নামের প্রকম্পিত ধ্বনি; হাসির রিন ঝিন, যৌবনের যৌথ ত্রাস!

পৃথিবীর বুক জুড়ে তৃষ্ণাক্রান্ত হাহাকার
বিলুপ্ত নদীর মৃত চোখে ক্রন্দনের উত্তপ্ত জল
ভেঙ্গে চুরমার হওয়া স্বপ্নের স্তূপ, শপথের নির্বাক সাক্ষী
এই সব কিছু ডিঙ্গিয়ে অন্তরীক্ষ কাঁপিয়ে সেদিন বৃষ্টি নামবে;
নব সৃষ্টির উল্লাসে রচিত হবে এক অনবদ্য কবিতা, উত্তাল
পৃথিবীর কবিরা যার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এতকাল।


দা উ দু ল  ই স লা ম
২৮/৭/১৫

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

কাঁদা মাটির গন্ধে ভরা নারী


 (বিশেষ দিনে নয় 
নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই প্রতি দিন ...... চিরদিন! বিশ্ব নারী দিবস সফল হোক)

তুমি জন্মেছও বলেই জন্মেছে এই ধরা
তুমি আমার মা আমার প্রিয় অপ্সরা
তিমির কান্তার রশ্মি তুমি
হিম কাঁটা রজনীর উষ্ণতা
ক্ষুধার্ত হা ‘ভাতের অন্ন তুমি
ক্ষত বিক্ষত জীবনের একমাত্র মমতা।

তুমি অনন্য
জনম দুঃখী তুমি সন্তানের জন্য
তুমি দেবী
তৃষ্ণার্ত জীবনের শীতল জল
তুমি ধরিত্রী প্রতিমা
মমতার আঁধার তুমি মহান ক্ষমা
রক্তের শিকলে বেঁধে দশ মাস দশ দিন
তীর্থের ক্রন্দনে ধুয়ে দিয়েছ সন্তানের কষ্ট মলিন
তুনে তুনে বুনো সংসার দিনে দিনে
শত জনমে হবেনা সাধ্য শোধ করি সেই ঋণ।

নারীর রূপারণ্য পবিত্র আলোয়
খুঁজে লই প্রভুর প্রতিচ্ছবি
বুঝে না বুঝে কত জ্বালাই পোড়াই তারে
তবু নারী আগলে লয় মমতার মর্মরে;
জন্ম জন্মান্তর নারীরাই বাঁধে আমাদের স্বপ্ন
অন্তরে অন্তরে নারীই কাঁদে এক চিমটি প্রেমের জন্য;
নারী নিরঞ্জন প্রভুর অমূল্য সৃষ্টি, দান
নিজের বিসর্জনে
কখনো মায়ের মমতায়;
কখনো প্রেয়সীর কোমলতায়
এই নারীই দিতে পারে নিঃস্বার্থ প্রাণ।

ধন্য নারী
জীবনের সমগ্র বেলায় তোমাকেই করি বন্দনা
ধন্য হও ধন্য
যদিও তোমার সন্তানেরা বড়ই অকৃতজ্ঞ, ভুল- মনা।

দা উ দু ল ই স লা ম।

রবিবার, ১ মার্চ, ২০১৫

কে কার কথা রাখে


 কে কার কথা রাখে 
-------------------------------
অগত্য তুলে নেয়া হল 
যা ফেলে দিয়ে ফেরিয়ে গিয়েছে সীমান্ত প্রাচীর
যা কিছু সত্য; সব যেন
নির্বাক অসহায় চিত্ত! মিথ্যার স্ফুটন ফুলঝুরির মত
তথাগত ক্ষমতার মত
বিচ্ছুরিত কাঁচের মত চিক চিক করছিল।

অবধারিত অন্ধকার নেমে আসে, নামতে হয়
অথচ নিলামর জলসভা ভেঙ্গে কান্নারা স্রোতের মত প্রবাহিত!
তথা কথিত সুশীলেরা সভ্যতার আশ্রয়ে বাঁচে; অথচ -
সভ্যতা বুঝতে রাজি নন কোন ভাবেই!!
কিন্তু বসন্তের আগমনে ব্যস্ত হন ঠিকই
যদিও অন্তরে জাগে নি কোন আকুতি
বাতাসের উজানে ঝরা বিবর্ণ পাতা গুলোর ভেঙ্গে যাওয়া আর্তি শুনে না কখনো।

পাহাড় থেকে নদী
অবলীলায় কসম করে রক্ষা হয় নি মনুষ্যত্ব আজ অবধি।

প্রার্থনায় নতজানু শাশ্বত অন্তর
জলে ডোবা কর্নিয়ায় মিনতি লীন স্বপ্ন বিস্তর!
কে বিশ্বাস করবে?
সেই নৈবদ্যে দেখা মেলেনি যৎকিঞ্চিত সহানুভূতি
মেলেনি আশ্বাস; সুমতি
রৈ রৈ করা হুজুগী জোয়ারে ভেসে যায় সমস্ত আয়োজন!

এমনিই অক্ষম হৃদয়
কখনো জানতে পারে নি - হাসি না কান্না? জীবন না মরণ?
ধ্বংস না সৃষ্টি? প্রেম না ঘৃণা?
কি- সে তা'র আছে প্রয়োজন??

দা উ দু ল   ই স লা ম।
১/৩/১৫