শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯

প্রসঙ্গ - আমিন , ভুল জায়গায় ভুল বাক্য ব্যবহার করে যেভাবে নিজেদের বিপদ বাড়াচ্ছি-

প্রসঙ্গ - আমিন , ভুল জায়গায় ভুল বাক্য ব্যবহার করে যেভাবে নিজেদের বিপদ বাড়াচ্ছি-
-------------------------------------------------------- দাউদুল ইসলাম।
‘ আমিন’ এটি একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ।
আমরা প্রতিদিনই শব্দ টি উচ্চারণ করছি, বলছি বা লিখছি। তবু আজ ‘আমিন’ প্রসঙ্গে লিখতে হচ্ছে কারণ বেশ কিছু দিন থেকে প্রসঙ্গটা আমাকে ভাবাচ্ছে।
কারণ বর্তমান ভার্চুয়াল সময়ে আমরা কম বেশী প্রায় সবাই ইন্টারনেট/ ফেসবুক ব্যবহার করেন।আর এসব মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তের খবরা খবর পাই, খবর পড়ে বা যে কোন ঘটনা
পড়ে মন্তব্য করছি- এই যে মন্তব্য করছি, একটা কথা লিখছি বা একটা শব্দ ব্যবহার করছি
এর গুরুত্ব কিন্তু অনেক। মন্তব্য বা বাক্য এমনিতে বিষয়ের উপর প্রভাব ফেলে, কারণ শব্দের একটি শক্তি আছে- যাই হোক মূল প্রসঙ্গে আসি-
কথা বলছি ‘ আমিন’ বলা নিয়ে। কেন আমরা আমিন বলবো, কখন বলবো?
আমিন শব্দ টির এসেছে ‘আমেন’ থেকে আমেন (Ameen) একটি হিব্রু শব্দ। এর অর্থ – 'so be it' অর্থাৎ 'এমনটাই হোক'
ইহুদী ও খৃস্টানরা একে প্রার্থনা বা প্রভুর গুণগানের পরেই বলে থাকে। মুসলিম সাম্রাজ্যের বিস্তারের সাথে সাথে বিজিত রাষ্ট্রগুলোর ইহুদী ও খৃষ্টানরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে, সেই সাথে তাদের অনেক রীতি নীতি ইসলামে প্রবেশ করে।
ফলে মুসলমানেরাও যখন আল্লাহর নিকট কোন প্রার্থনা করে, মঙ্গল কামনা করে বা দোয়া করে তখন যিনি মোনাজাত করছেন তার সাথে সাথে অন্যরাও আমিন বলে সম্মতি জানান।
তার মানে আমিন অর্থ হচ্ছে – সম্মতি দেয়া, একমত হওয়া বা কবুল করা।
যদিও কোরানের কোথাও এই শব্দটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে আল্লাহর কোরানে 'আমিন' শব্দটি না থাকার পরেও আজকের মুসলমানরা 'আমিন' শব্দটিকে কেন এত গুরুত্ব দেয়?
হ্যাঁ এর নির্দেশনা এসেছে হাদিস থেকে।
আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন যে রাসুল (সা) ইরশাদ করেন যে,- ইমাম যখন আমীন বলবে তোমরাও তখন আমীন বলবে। কারণ ফেরেশতাগণের আমীন বলার সাথে যার আমীন বলা হবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।
ইমাম তিরমিযী (রহ) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
এখন আমরা যদি সড়ক দুর্ঘটনার কোন খবরের নিচে ‘আমিন’ আমিন’ লিখে মন্তব্য করি, অথবা কোন দুঃসংবাদ শুনে যদি আমিন আমিন বলে থাকি তাহলে অর্থ টা কি দাঁড়াচ্ছে?
দুর্ঘটনা টি বা দুঃসংবাদ টি কে আপনি সমর্থন করছেন, এবং আরো হবার জন্য দোয়া করছেন।
আমরা আমাদের প্রতি ওয়াক্ত নামাজে ইমাম সাহেব যখন সুরা ফাতেহা পাঠ করেন তখন আমরা মনে মনে বা শব্দ করে আমিন বলি। কারণ সুরা ফাতেহা একটি সম্পূর্ণ দোয়া যার পরে আমরা আমিন বলে তা কবুল হোক বলে সম্মতি বা আবেদন জানাই।
এক কথায় আমিন মানে '(আল্লাহ) আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন '
হিব্রু শব্দ আমেন " আরবি শব্দে 'আমিন ' এর আরো কয়েকটি অর্থ আছে। যেমন- নিরাপদ , (কারো কাছে কিছু রাখলে, সেটাকে আমানত বলে) তারপর 'বিশ্বস্ততা' (কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বাস করা) ও কবুল করা ( আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা)
যেমন রাসুল সা: কে বলা হতো আল-আমিন তথা একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি!
সুতরাং ভুল জায়গায় ভুল করলে যেমন ভুল ফলাফল দাঁড়ায়, তেমন দুঃসংবাদ বা খারাপ খবরে 'আমিন' লিখলে বা বললে এর ফলাফলও খারাপ হতে পারে বা হয়ে থাকে।
আশা করি বিষয় টি সবার বোধগম্য হবে।

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭

সাধ ও স্বাদের সমীকরণ


চৌরাস্তার মোড়ে গুণ্ডি দোকানে ভিড় বাড়ে
পোড়া তেলে পাকোড়া ভাজে সস্তায়
ছানা মুড়ির নাস্তায়... চায়ের ঝড়ে, খাস্তায়।
রসের অংক কষে,
গরম কাপের উত্তাপ জুড়ায় ফু তে –
চুমুর ভঙ্গিমায়, শ্রু’তে উলুর ধ্বনি
ছোঁয়ার ধর্ম মেনে যশে চিনি, দুধের স্বাদ!...
এভাবে সাধ বাড়ে
রোজ রোজ বাড়ে সাধ ও স্বাদের সমীকরণ
যে হাত অবিরাম ধান বুনে,
যে চাষে জুড়ায় হৃদি উদ্যান- কালের চরণে
যে ঘামে নিড়ায় বুক
যে শ্রমে নামে মধুপের ঘুম, অধরা সুখ-
সে সব
ধীরে ধীরে সরে যায় দূরে!
তেঁতে নাড়ি নক্ষত্র
হাপর বাড়ে,
বাড়ে নছড়ামির ঘোর...
তলে তলে ঢল নামে
চৌরাস্তা ছেড়ে গলির মোড়ে মোড়ে...
ক্ষুধার মিছিলে ছুটে বোকারা, নেশার ফাঁদে ডুবে ছোকরা
মা কাঁদে
বাদানুবাদে বাবার সাথে ঝগড়া বাঁধে!
ভাঙ্গে ঘর
জ্বরে পোড়ে বেহুলার লখিন্দর...

বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

ঋণী করো ..

 

এসো,
আমাকে ঋণী করো
মনে প্রাণে
যৌবনে প্লাবনে
করো ঋণে ঋণে জর্জরিত,
বিদীর্ণ করো
অঙ্গার করো
করো জীর্ণ কুন্তল, নিষ্প্রভ;
বিবাগী করো
উদগ্রীব করো 
এই জন্মে যা শোধ অসম্ভব!
করো ঘায়েল
রুদ্ধ পায়েল
ঋণের শৃঙ্খলে হই দেউলিয়া প্রেমিক
প্রেমে- উদ্যমে
গুপ্ত সঙ্গমে
তোমাতেই করো সুরলিয়াজমের সৈনিক!

বিদায় যে দেয়, অবলীলায় বেড়ে যায় তার গ্লানি

বিদায় যে দেয়, অবলীলায় বেড়ে যায় তার গ্লানি

 
ওরা আসে
ফের চলে যায়...
বিদেশ বিভূঁইয়ে- দূর প্রবাসে
ওদের কাড়াকাড়ি অর্থ বিত্ত
দামী বাড়ি গাড়ী,
ঢের সারা স্বপ্ন ফেরি 
পারফিউমের সুবাসে মাতায় চিত্ত!

আমি পড়ে থাকি আমার মৃত্তিকায়, একা একা গল্প করি-
স্মৃতি বিন্যাসে
নীরব দীর্ঘশ্বাসে!...

ফিরি ভাটির কূলে, শিশির ভেজা ঘাসফুলে, পান্তা ভাতে, বাসী ঝোলে,
হাঁটি- 
যখন বাতাসের প্রতিকূলে থমকে যায় নৌকোর পাল, যখন জিলের জলে
বকের ছায়া মায়া লুটে!
হেমন্তের আঁচলে ধূসর বিকেল, জঙ্গলে পাখির কিচিরমিচির, অতল অনলে
ভস্ম মাটির পিঞ্জিরা, হৃদয় কাঁদে গোপন চোটে!!

ওরা বিদায় নেয়, ফি আমানিল্লাহ... ভাল থাকিস
- ইনশাল্লাহ...
ওরা জানে না, আমি জানি-
বিদায় যে দেয়, অবলীলায় বেড়ে যায় তার গ্লানি!

দিন কাটে। মিনিটে মিনিটে...
জানতে পারিনা কেমন করে বয়স বাড়ে, গড় হারে বাড়ে স্মৃতি, 
দেনা- পাওনা, ক্ষুধা-ব্যঞ্জনা...
পাপে-নিষ্পাপে
হিসেবে বেহিসাবে বাড়ে দামাল বেলার অনুশোচনা !
এসবেও আঁকড়ে রাখি
মীনাক্ষী ভাসে অশ্রু জোয়ারে...মর্মরে মনোবন্দনা, পিয়াসীর তৃষা

আমি যে খুব সাধারণ মানুষ... দিন দরিদ্র, গরিবানা ভালবাসা...।

কালের উচ্চারণ

কালের উচ্চারণ

 
আমি তো
অতটা বিদ্বান নই
নেই গোলামীর যোগ্য সনদ!
অথবা, উপভোগ্য কোন জোকার নই
সার্কাসের বামুন নই-
আমি কালের উচ্চারণ!

এক মহা যুদ্ধ শেষে
মাঘের শীত জড়ানো গোধূলি রঙ মেখে জন্মেছিলাম, সেদ্ধ ধানের গন্ধে, ক্ষণ জয়ে...
মোহন সান্দ্রে মামুলি উল্কা পতনে, অমোঘ উচ্চারণে... 
কিন্তু- আমি ধ্বনি নই
ধ্বনি- প্রতিধ্বনির পরিধি...
যেমন,
নদী
বাঁধন হারা! জোয়ার ভাটির বাহন, তরঙ্গে উত্থিত ধ্বনি
ধ্বনি –ভাঙ্গনে, গমনে,পতনে...

মোদ্দা কথা আমি নুয়ে পড়ার নই
নই ঝুঁকে, ঝুলে চলার দাস!
আমি উদ্ভাস
গৃহ মুক্ত । গৃহিণী মুক্ত। বন্ধনী মুক্ত। সরল রেখা।
আমি জীবনের নই। জীবন আমার।
মনের নই। মন আমার।
এই নগর, গ্রাম, প্রান্তর... বুনো ঘ্রাণের আমি নই;
আমারই নগর...আমারই গ্রাম... প্রান্তর... ঘ্রাণ!

বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭

দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস: গিটের মহিমা...

দাউদের কাব্যময় উচ্ছ্বাস: গিটের মহিমা...

গিটের মহিমা...


----------------------------- উৎসর্গঃ কবি আরণ্যক টিটো কে-
ভাবতে গেলে
প্রকট হয়ে উঠে ভাব অভাব...অশান্ত শূন্য! বুদবুদ!!
যেখানে শূন্যতা... সেখানেই হাওয়ার দুরন্তপনা!
নির্বোধ! বেদখল!!!
কি রঙে
কি ঢঙে
কোন তালে স্থিরতা পাবে – মন, মনন। ভাবের অর্গলে ভাঙ্গে বাঁধ!
সীমানা ডিঙ্গিয়ে অনুপ্রবেশ করে দুর্মদ আবর্জনার স্রোত! দুর্ভাবনা...
ভাবের জটলায় দুর্ভেদ্য গিট! অনর্গল বুদবুদে ঘোলা জল! ক্ষীণ সম্ভাবনা!!!
চৈতন্য ডোবে অবচেতনে
ক্ষুদ্রাতীত ক্ষুদ্রতায়-
অতল গহ্বরে। গুপ্ত খোপে। অতন্দ্র অভিশাপে।
গিটের মহিমায় জাগে প্রত্যাশা। নব-চেতনা । অনুরাগের আলো, সুর, ছন্দ...
ণত্ব স্বভাব!...
কষ্টে আঁকে নতুন ভাবধারা। হারিয়ে খোঁজে ঠিকানা। আবেগের মন্দ্র রূপ।
ছোঁয়ার দূরত্বে ভাবের ভৈবব। মনোরম সুন্দর। স্থির জলে স্বচ্ছ চাতাল, মৃণ্ময়ী সুখ...
আমি/ আমরা তাকে ছুঁইনা
ফিরি বাঁকে
বক্র ভাবে, জটের বুকে খুঁজি গিটের মহিমা...

১৫/১১/১৭